৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

একই পরিবারের চারজনের লাশ, যা জানা গেলো চিরকুটে

Admin Published: August 15, 2025, 4:34 pm
একই পরিবারের চারজনের লাশ, যা জানা গেলো চিরকুটে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর অদুরে পবা উপজেলার বামুনশিকড় গ্রামে একই পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধারের পর সেখান থেকে পাওয়া চিরকুট নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। চিরকুটে অভাবের কথার পাশাপাশি অভিমানের কথাও লিখা হয়েছে। চিরকুটটি নিহতদের ঘর থেকে উদ্ধার করা হলেও, এটি মারা যাওয়া কৃষক মিনারুলের নিজ হাতে লিখা কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিরকুটে অভাবের কথা লিখা রয়েছে।

ঋণগ্রস্ত হয়ে অভাব অনটন ও খাবার সংকটে তারা এ পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও চিরকুট লিখা রয়েছে। চিরকুটে লেখার ভাষা এরকম-‘আমি মিনারুল নিচের যে সব লেখা লেখবো। সব আমার নিজের কথা লিখে যাচ্ছি। কারণ, আমরা চারজন আজ রাতে মারা যাবো। এই মৃত্যুর জন্য কারো কোনো দোষ নেই।

এতে লেখা আছে, আমি মিনারুল প্রথমে আমার স্ত্রীকে মেরেছি। তারপর আমার মাহিমকে (ছেলে) মেরেছি। তারপর আমার মিথিলাকে (মেয়ে) মেরেছি। তারপর আমি নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছি।

চিরকুটে অভিমানের কথাও লেখা আছে, বলা হয়েছে- ‘আমাদের চারজনের মরা মুখ যেন বাপের বড় ছেলে ও তার স্ত্রী-সন্তান না দেখে এবং বাপের বড় ছেলে যেন জানাজায় না আসে। আমাদের চারজনকে কাফন দিয়ে ঢাকতে আমার বাবা যেন টাকা না দেয়। এটা আমার কসম।’

চিরকুটের আরেক পাতায় লেখা আছে, আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম, কারণ আমি একা যদি মরে যাই তাহলে, আমার স্ত্রী-সন্তানরা কার আশায় বেঁচে থাকবে? কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমারা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো। কারও কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমার জন্যে কাউকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য অনেক মানুষের কাছে ছোট হয়েছে, আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত. শুক্রবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিজ বাড়ি থেকে তাদের লাশ পাওয়া গেছে। নিজ ঘরের বাড়ির কর্তা মিনারুলের লাশ পাওয়া যায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। একই সঙ্গে স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩), ও ১৮ মাসের মেয়ে মিথিলার লাশ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদয়ালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেত। স্থানীয়দের তথ্যমতে মনিরুল ইসলাম কৃষি কাজ করতেন। তারা ঋনগ্রস্থ ছিলেন। তারা নিজেদের মাটির ঘরে বসবাস করছিলন। সে ঘরেই লাশ পাওয়া যায় তাদের।

এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং মিনারুল ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। সেখান থেকে পাওয়া চিরকুটে অভাব অনটনের কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, এটি নিয়ে আরএমপির ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে।