স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর গ্রাম আদালতে গত ১৯ মাসে এক হাজার ৫৮২ নারী মামলা দায়ের করে বিচার পেয়েছেন এক হাজার ৫২৬ জন। ওই সময়ে গ্রাম আদালতে মোট মামলা দায়েরের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭৩৮টি। সোমবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ‘জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। তিনি গ্রামীণ নারীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করে বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী তার বকেয়া ভরণপোষণ আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সহজে ও কম খরচে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। অল্প সময়ে সঠিক বিচার পাওয়া যায় এবং উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ মীমাংসা হওয়ায় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনও সম্ভব হয়।
এ সভায় জানানো হয়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯ মাসে জেলায় মোট পাঁচ হাজার ৭৩৮টি মামলা দায়ের হয়েছে গ্রাম আদালতে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৮২ নারী মামলা দায়ের করেন, যারমধ্যে বিচার পেয়েছেন এক হাজার ৫২৬ জন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সাধারণ মানুষ যেন সহজে এই সেবা পায়, সে জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া—যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান। স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গ্রাম আদালত হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিচ্ছে এবং এটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।