৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

গর্তে পড়া শিশু সাজিদের জন্য গ্রামজুড়ে উৎকণ্ঠা

Admin Published: December 11, 2025, 11:00 am
গর্তে পড়া শিশু সাজিদের জন্য গ্রামজুড়ে উৎকণ্ঠা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদ উদ্ধার হয়নি ১০ ঘন্টাতেও। শিশু সাজিদের জন্য পুরো গ্রামের মানুষ উৎকন্ঠায় রয়েছে। এক রুদ্ধশ্বাস অবস্থা বিরাজ করছে পুরো গ্রামে। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছিলো।

এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের ধানখড়ের মাঠে খেলতে খেলতেই হঠাৎ ৩০-৩৫ ফুট গভীর একটি বোরিং করা গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ।

মাত্র ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সেই অন্ধকার গর্তে পড়ে যাওয়া ছোট্ট শিশুটির জন্য মুহূর্তেই দিশাহারা হয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে জমির মালিক কছির উদ্দিন সেচের জন্য সেমি ডিপ নলকূপ বসাতে গিয়ে এই গর্তটি খনন করেছিলেন। কিন্তু পানি না মেলায় কাজটি আর এগোয়নি। ফলস্বরূপ খোলা অবস্থাতেই রয়ে যায় বিপজ্জনক এ গর্তটি।

তার এ গর্তেই প্রাণ সংকটে ফেলেছে দুই বছরের নিষ্পাপ সাজিদকে। শিশুটির মা খড় তুলতে মাঠে গিয়েছিলেন। সেই সময় খেলতে থাকা সাজিদ হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে তুলতে পারেননি। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে।

তানোর, রাজশাহী সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গর্তের ভেতরে পাইপ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যেন সাজিদ বেঁচে থাকার শক্তিটুকু ধরে রাখতে পারে। পাশেই স্কেভেটর দিয়ে খনন চলছে, একমুহূর্ত দেরিও করছেন না উদ্ধারকর্মীরা। রাত সাড়ে ১১টায় পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছিল।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের প্রাথমিক উদ্ধার চেষ্টায় কিছু মাটি গর্তে পড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে। ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের ভিড় আর কোলাহলে শিশুটির সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শিশুটি জীবিত আছে নাকি মারা গেছে তা নিশ্চিত নয়। উদ্ধার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে থাকা তানোর থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, শিশুটি অনেক গভীরে পড়ে গেছে। আমরা বিকেল ৪টা থেকে ওই গর্তে অক্সিজেন সরবরাহ করছি। শিশুটি বেঁচে আছে এমন আশা নিয়েই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। শিশুটি উদ্ধারে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

রাত পৌনে ১২ টায় ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক সাইদ সাজু জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি টিম পৌচেছে। এরইমধ্যে গর্তের চারপাশে অন্তত ২৫ ফুট খোড়া হয়েছে। আরো গভিরে খোড়ার জন্য বড় এসকেভেটর যুক্ত করা হয়েছে।