স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে অনুষ্ঠিত জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা ও অভিযোজন বিষয়ক অংশীজন সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার কার্যকর উপায় হিসেবে টেকসই কৃষি পদ্ধতি, পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জ্ঞানের ব্যবহারকে তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার উপজেলা প্রশাসনিক সভা কক্ষে এ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি এ সভার আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, নারী কৃষক, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য, স্থানীয় যুব ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ ২৬ জন অংশগ্রহণ করেন। তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি দিন দিন তীব্র হচ্ছে, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে এসময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ কুমার, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াজেদ আলী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মনসুর আলী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজু চৌধুরী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. হাবিবা খাতুন, কলেজ অধ্যক্ষ অসীম কুমার সরকার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সহায়কের দায়িত্ব পালন করেন ‘কাল্টিভেটিং চেঞ্জ” প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। এই ধরনের পরামর্শ সভা আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নেন সহায়তা করবে। সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে বরেন্দ্র অঞ্চলকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলা সম্ভব।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক বলেন, নারী নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীলতায় ভূমিকা রাখতে হবে। ঐতিহ্যগত কৃষি জ্ঞান সরকারি সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে অন্তভূক্তিসহ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ জোরদার এবং এনজিও ও সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিও আহ্বান জানান।
সভায় শ্যামলী টুডু নামের একজন নারী কৃষক বলেন, আগে আমরা একধরনের ফসল করতাম। এখন আমরা বৈচিত্র্য এনেছি। এতে খরার সময়ও কিছু ফসল টিকে যায়, জীবিকা চলে। সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার কার্যকর উপায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।