৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

কিলিং মিশনে ছিল একাধিক গ্রুপ

Admin Published: December 15, 2025, 12:53 am
কিলিং মিশনে ছিল একাধিক গ্রুপ

ডিএনএন ডেস্ক: ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার টার্গেটে গুলি করা সন্ত্রাসীরা একাধিক গ্রুপে ভাগ হয়ে ছিল। প্রথম গ্রুপটি সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালালেও ব্যাকআপে আরও দুটি মোটরসাইকেল থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ওসমানকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া দুইজনসহ আরও দুটি মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তে ও সন্দেহভাজন ফয়সাল ওরফে দাউদসহ দুর্বৃত্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কিলিং মিশনে ৪ জনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।


এ হত্যাচেষ্টার আগে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা গত তিন দিন ধরেই ওসমানের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে ওসমানকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টায়  জড়িত সন্দেজভাজন একজনের ছবি প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ফয়সাল করিম দাউদ নামের ওই ব্যক্তি রাজনীতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ অঙ্গসংগঠন সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। নির্বাচনে খরচ যোগানোর আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করতে ওসমানের পাশে থেকে প্রচারণা চালাতেন দাউদ। এদিকে হামলাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে গুরুতর আহত ওসমানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সর্বোচ্চ চিকিৎসা এবং হামলাকারীদের কঠোর বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা করেনি ওসমানের পরিবার। ওসমান হাদি বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। অন্যদিকে হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে একাধিক জায়গায় র‌্যাব, পুলিশ এবং ঢাকা মহানগার গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিমের সদস্যদের অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ সম্ভ্যাব্য হামলাকারীসহ হাদিকে হত্যাচেষ্টায় অংশ নেওয়া কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, হত্যাচেষ্টায় অংশ নেওয়া ২ জনের মধ্যে সন্দেহভাজন একজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা  ফয়সাল  করিম দাউদ। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। গত কয়েক দিনে ফয়সালকে হাদির নির্বাচনি প্রচারণার সময় সঙ্গে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  ঘটনার দিনও সকাল থেকে ফয়সাল হাদির সঙ্গে ছিলেন। ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা গেলে  ক্লু উদঘাটনে একধাপ এগিয়ে যাবে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফয়সালসহ সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


গতকাল সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডের যে স্থানে হাদিকে গুলি করা হয়েছে, সেখানে ছোপ ছোপ রক্ত রয়েছে। পুলিশ রাস্তার ওই অংশটুকু ক্রাইমসিন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে। আশপাশের অনেকে গতকালও ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়ে ছবি এবং ভিডিও তুলছে। আশপাশের এলাকায় এক ধরনের  আতঙ্ক দেখা গেছে। এ ঘটনায় উৎসুক সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতকালও ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন।


ডিএমপি থেকে জানানো হয়েছে,  গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের  হামলায়  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুরুত্বর আহত হন।  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হামলাকালীদের গ্রেপ্তারে  রাজধানীতে জোর অভিযান শুরু করেছে। ঘটনাস্থল সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছবির ব্যক্তিকে (ফয়সাল করিম দাউদ) প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেছে। ওক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে  বা তার সন্ধান পেলে  ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসির (ফোন নম্বর ০১৩২০০৪০০৮০) অথবা ওসি পল্টন (ফোন নম্বর ০১৩২০০৪০১৩২) নম্বরে  অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। সন্ধানদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং পুরস্কৃত করা হবে।


৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা :


ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। হামলাকারীদের  ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে।


উপদেষ্টা আরও বলেন, এ হামলায় জড়িত কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আমরা জনগণের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাব বলে দৃঢ়বিশ্বাস করি। ওসমান হাদির ওপর আক্রমণের ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস বলে আমরা মনে করি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা বানচাল করার যেকোনো অপচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার কঠোরহস্তে দমন করবে।’


কে এই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম দাউদ :


পুলিশ ছবি প্রকাশ করার পর সন্দেহভাজন ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল  করিম দাউদ সম্পর্কে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আদাবরে  একটি অফিসে  চাঁদাবাজি করতে গিয়ে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় দাউদ। পরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হলেও অস্ত্র আইনে কোনো মামলা হয়নি। ওই মামলায়  চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি জামিন পেলেও কারাগার থেকে বের হয় ২০ ফেব্রুয়ারি।


র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, হাদিকে গুলি চালিয়ে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের একজন ফয়সাল করিম দাউদ। তাকে গ্রেপ্তারে র‌্যাব ঢাকাসহ সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। ফয়সাল আদাবর থানা ছাত্রলীগের  সভাপতি নির্বাচিত হন ২০১৮ সালে। এ ছাড়া সে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতিও ছিল। ৫ আগস্টের পর ৮ নভেম্বর ফয়সালকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২। ওই সময় তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়। চাঁদাবাজির মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় ৩ মাসেরও বেশি সময় জেলে থাকার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি তার জামিন হয়। কারাগার থেকে সে ছাড়া পায় ২০ ফেব্রুয়ারি।


তিনি আরও জানান, ফয়সাল গত ৩ দিন ধরেই ওসমান হাদির সঙ্গে তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল। সে কখনো একা হাদির সঙ্গে কথা বলত না। সঙ্গে আরও কিছু ছেলেসহ হাদির সঙ্গে থাকত। ঘটনার দিনও হাদির সঙ্গে ছিল ফয়সাল। হাদির সঙ্গে যে পোশাকে ছিল হাদিকে খুলি করা ব্যক্তির একই রঙের পোশাক হওয়ায় ফয়সালকে সম্ভাব্য হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।


পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ওই যুবকের নাম ফয়সাল করিম দাউদ, ডাকনাম রাহুল। ফয়সাল করিম দাউদের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে, কেশবপুর কলেজসংলগ্ন এলাকায়। তার পিতার নাম হুমায়ুন কবির। মায়ের নাম  হাসি বেগম।  ফয়সাল রাজদানীর  আদাবর থানাধীন পিস কালচার হাউজিং সোসাইটির ৯ নম্বর রোডের  ৪১ নম্বর বাসা থাকত।  এদিকে, ফয়সাল করিম দাউদের  পিসিআর রিপোর্ট-সংক্রান্ত কিছু তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ফয়সাল করিম দাউদ গোলাম রাব্বানির কমিটির সময় ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ছাড়াও আদাবর থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন হলেও  কমিটি  বিলুপ্ত নয়।  ঢাকা মহানর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার অনুসারী হয়ে ফয়সাল আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি ও  সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল। দল ক্ষমতায় থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ বা মামলা করার সাহজ পায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও ফয়সাল আদাবর এলাকায় ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে আদাবরে একটি অফিসে অস্ত্রসহ চাঁদাবাজির অবিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চাঁদাবাজির মামলা হয়েছিল।


প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিবারের সাক্ষাৎ, সর্বোত্তম চিকিৎসা ও বিচারের আশ্বাস :


এদিকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পরিবারকে তার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওসমান হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দীক, বোন মাসুমা এবং ইনকিলাব মঞ্চের তিন নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা ও মো. বোরহান উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আশ্বাস দেন।


ওসমান হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাদেশ তার জন্য দোয়া করছে। তার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতে সবাই চেষ্টা করছে। হাদির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যদি দেশের বাইরে পাঠাতে হয়, যেখানে পাঠানোর প্রয়োজন হবে সরকার সেখানেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’ এমন নৃশংস হামলার সাথে যারা জড়িত তাদের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ ঘটনার আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


ওসমান হাদির বোন বলেন,  সে ছোটবেলা থেকেই দেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। ছোটবেলা থেকেই সে বিপ্লবী। বিদ্রোহী কবিতা তাঁর প্রিয়, সে বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করতে ভালোবাসত। তাঁর একটি ১০ মাসের সন্তান আছে। হাদি আমাদের মেরুদণ্ড।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর অনেক কাজ, ওকে বেঁচে থাকতে হবে। আপনারা বিপ্লবী সরকার। যে করেই হোক জুলাই বিপ্লবীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে। অপরাধীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবের বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অনেকে বাসায় ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু ওসমান হাদি বাসায় ফিরে যায়নি। সে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করত এবং জুলাই বিপ্লবের জন্য দিন-রাত কাজ করছে। যে ছেলেটা গুলি করেছে, শুনতে পাচ্ছি সে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। কোন প্রক্রিয়ায় সে জামিন পেয়েছে সেটা তদন্ত করতে হবে।’


উদ্ধার হওয়া গুলি ও ভগ্নাংশ ৭ পয়েন্ট ৬৪ বোরের :


এদিকে ওসমান হাদিকে যে স্থানে গুলি করা হয়েছে সেখান থেকে একটি খোসা ও গুলির ভগ্নয়াংশ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টাকারী কতজন ছিল, কোন মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। 


সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন খান জানান, সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে একটি খোসা এবং গুলির ভগ্নাংশ উদ্ধার করেছে। ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য সেগুলো ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া খোসা ও গুলির ভগ্নাংশ  পিস্তলের নাকি রিভলবারের তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গুলির ভগ্নাংশ ও খোসা ৭ পয়েন্ট ৬৪ বোরের। এসব গুলি বিভিন্ন পিস্তলে ব্যবহার করা হয়।


হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি :


এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে যারা হত্যার চেষ্টা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। না হলে ১৫ ডিসেম্বর শহিদ মিনার থেকে এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালিত হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাবেশ ও গণপ্রতিরোধ’ শীর্ষক এক কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচির সভাপতি হিসেবে এই ঘোষণা দেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।


মাহমুদুর রহমান বলেন, এই সরকার জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হাদির ওপর হঠাৎ করে আক্রমণ হয়নি। তার ওপর যে আক্রমণ হবে সেটা বারবারে জানান দেওয়া হয়েছে। আজ জুলাই যোদ্ধাদের ওপরে আক্রমণ করা হচ্ছে। ফুয়াদ (এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক) আক্রান্ত হয়েছে। জুবায়ের (ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী বা এ বি জুবায়ের) বলে গেলেন, টেলিফোনে হুমকি আসছে। অথচ এই সরকার ভদ্রতা দেখাচ্ছে। তারা এখন পর্যন্ত কোনো কম্বিং অপারেশন চালাতে পারেনি। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের কোনো অ্যাকশন তারা দেখাতে পারেনি।


মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, হাদিকে যারা হত্যা করার চেষ্টা করেছে, সেই আততায়ীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে ১৫ ডিসেম্বর শহিদ মিনার থেকে এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তাঁরা দ্বিতীয়বার বিপ্লব করে অসম্পূর্ণ বিপ্লব পূর্ণ করবেন। যাতে করে সব রাজনীতিবিদ বলতে বাধ্য হয়, এবার বাংলাদেশে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে ১৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিকেল ৩টায় সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।