৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহী পদ্মায় চলছে মা ইলিশ শিকার

Admin Published: October 25, 2024, 4:42 pm
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহী পদ্মায় চলছে মা ইলিশ শিকার

স্টাফ রিপোর্টার, : সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট ও বাঘা এলাকার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকারের ধুম পড়েছে। প্রশাসন দায়সারাভাবে নিষেধাজ্ঞার কথা প্রচার করলেও নদীতে নেই কার্যকর অভিযান। ফলে বেপরোয়া ভাবে পদ্মায় চলছে মা ইলিশ নিধন কার্যক্রম।

আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকার ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু সরকারী সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে নদীর কিনারে সকাল বিকাল বসছে মাছের হাট। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় চলছে ইলিশের কেনাবেচাও।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে ইলিশ শিকার না করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন; কিন্তু নদীতে নেই কার্যকর অভিযান। মাঝে মাঝে নদীর ধারে নৌকায় ব্যানার ঝুলিয়ে অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছে না মা ইলিশ নিধন কার্যক্রম।

সরজমিন চারঘাটের ইউসুফপুর, টাঙ্গন, পিরোজপুর, গোপালপুর, রাওথা ও বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ও আলাইপুরে ঘুরে পদ্মায় অবাধে মৎস্য শিকারের দৃশ্য দেখা গেছে । এসব এলাকায় দিনরাত চলছে মা ইলিশ নিধনের কার্যক্রম।

চারঘাটের মীরগঞ্জ এলাকার এক স্কুল শিক্ষক বলেন, দিনেরাতে সমান তালেই জেলেরা বেপরোয়া ভাবে শিকার করছে মা ইলিশ। জেলেদের জালে যেসব মাছ ধরা পড়ছে সেসব মাছের পেটে অধিক ডিম পাওয়া যাচ্ছে। মা ইলিশের সঙ্গে ঝাটকাও নিধন চলছে। ফলে সরকারের নেয়া উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন মোটরসাইকেলযোগে আসছেন পদ্মার ধারে ইলিশ কিনতে। কিছু ইলিশ স্থানীয়ভাবে বিক্রি হলেও অধিকাংশই যাচ্ছে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়।

জানা গেছে, জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, মাঝারি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় এবং ১ কেজি ওজনের ডিমওয়ালা মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে সাড়ে ১৮০০ টাকায়।

চারঘাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, মৎস্য রক্ষায় আমরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। গত কয়েক দিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ জালও। তারপরেও কিছু অসাধু জেলে ইলিশ মাছ ধরছে।

এ বিষয়ে জেলার চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা সুলতানা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া, জেলেদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে। তারপরেও অসাধুরা মাছ শিকার করছে। প্রশাসন এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।