৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৫ আগস্ট, ২০২৬
রাজশাহীতে কর্মশালা

অধিকার সচেতন নাগরিকই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল শক্তি

Admin Published: October 11, 2025, 12:52 pm
অধিকার সচেতন নাগরিকই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল শক্তি

স্টাফ রিপোর্টার : ‘আইনের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র আদালতের কাজ নয়; এটি সমাজের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সচেতন নাগরিকরাই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। নাগরিকরা যদি নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ থাকে, তবে সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও দুর্নীতির জায়গা থাকবে না। সংবিধান শুধু একটি দলিল নয়—এটি ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতার জীবন্ত প্রতিশ্রুতি, যা প্রতিটি নাগরিকের জানা ও বোঝা প্রয়োজন।’ শনিবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ‘সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, অধিকার সচেতন নাগরিকই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের মূল শক্তি। সংবিধান ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নাগরিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানা ও তা রক্ষায় উদ্যোগী হওয়াই গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে আইন প্রণয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি প্রকল্প, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার।

কর্মশালায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহিদ ইবনে মিরাজ এর সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের পরিচালক যুগ্ম সচিব জিএম আতিকুর রহমান জামালী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সহকারী সচিব মুহাম্মদ হারেস।

বিশেষ অতিথি ছিলেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে কুলসুম সম্পা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার, আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা জজ সাদিয়া সুলতানা এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন মাহবুবা খাতুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম মিয়া।

কর্মশালায় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, ‘সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই সে বিষয়ে অবহিত নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ব্যাখ্যা করা হয়।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রশাসন, আইনপ্রণেতা ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির এ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।’

অতিরিক্ত জেলা জজ সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘আইন সম্পর্কে সচেতনতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; নাগরিকরাও নিজ নিজ অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন নাগরিকই সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং আইনের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি করে।’


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘সংবিধান ও আইন সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। নাগরিকরা তাদের অধিকার জানলে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়।