৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

প্লাবিত পবার চরাঞ্চলের ২০০ পরিবারে চাল পৌছালো উপজেলা প্রশাসন

Admin Published: August 13, 2025, 10:32 am
প্লাবিত পবার চরাঞ্চলের ২০০ পরিবারে  চাল পৌছালো উপজেলা প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত জেলার পবার চরাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের পাশে দাড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম এলাকা চরখিদিরপুর, চরখানপুর ও চরতারানগরে নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের এই যৌথ উদ্যোগে প্রায় ২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই চরাঞ্চলগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সড়কপথ না থাকায় একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। নৌকা করেই সেখানকার মানুষের হাতে সরাসরি চালের বস্তা তুলে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই নদীর ঘাটে ত্রাণ নিতে জড়ো হয়েছিলেন চরাঞ্চলের কয়েকশ নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশু। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী আবু বাশির। এছাড়া হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

কয়েকদিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারনে চরাঞ্চলগুলোর বসতভিটা ও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। চর খিদিরপুরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন চালের বস্তা হাতে পেয়ে বলেন, প্রতিবছর বর্ষার সময় নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। কাজ-কাম বন্ধ হয়ে যায়। এই সহায়তা আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

ত্রাণ নিতে আসা চরখানপুরের আরফা খাতুন নামে এক নারী জানান, বন্যা ও নদীভাঙনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরের খাবারও ফুরিয়ে আসছিল, ঠিক এমন সময়ে চাল পেলাম। সরকার আমাদের কথা মনে রেখেছে, এতেই আমরা খুশি ও কৃতজ্ঞ।

ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং সেই অনুযায়ী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই সহায়তা তারই একটি অংশ। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছি। এটি কেবল শুরু, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে আরও ত্রাণ বিতরণ করা হবে। শুধু তাই নয়, বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্যও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ অন্যান্য উপজেলার প্লাবিত ও দুর্গম চরাঞ্চলেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষি সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।