স্টাফ রিপোর্টার : পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ও মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিলের রাজশাহীর তানোর উপজেলার আদিবাসী নারীরা।প্রশিক্ষণ থেকে তারা কীভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব তার কৌশলও রপ্ত করেন।
রাজশাহী নগরীর হোটেল ওয়ারিশানে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট দুদিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষনের আয়োজন করে। শুক্রবার এ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশ'র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জেলার তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের ২৫ জন আদিবাসী নারী কৃষক অংশ নেন। 'কৃষি বাস্তুুবিদ্যা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন: দক্ষতা সহায়ক প্রশিক্ষণ' শীর্ষক দুদিনের কর্মশালায় প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর সুব্রত পালের সঞ্চালনায় সহায়ক হিসেবে প্রশিক্ষন পরিচালনা করেন কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান এবং রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক ড. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা, সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন কৌশল, ফসলের বহুমুখীকরণ ও পানি সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি, নীতি পরামর্শ ও আলোচনার কৌশল, জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা, অর্থায়নে প্রবেশাধিকার, নারীবান্ধব ও যুব-কেন্দ্রিক সুযোগ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং কমিউনিটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।
আয়োজকরা জানায়, ২৫ জন আদিবাসী নারী কৃষকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের সংগঠিত করা, তাদের ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করা, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে টেকসই সমাধান তৈরি করা।
প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীরা এগ্রোইকোলজি এবং দ্বিতীয় দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নারী নেতৃত্বের বিকাশ, উদ্যোক্তা-দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি। অংশগ্রহণকারীরা নারী অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নারীর ভূমিকা বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং কৃষি ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তারা বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ আদিবাসী নারীদের কৃষিতে অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে নারী নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।