স্টাফ রিপোর্টার : পূজামণ্ডপে গিয়ে দেবতাকে হাত তুলে প্রণাম করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এক কৃষককে তওবা পড়িয়ে সমাজে নেওয়া হয়েছে। তাকে কালেমা পড়িয়ে পুনরায় মুসলমান করা হয়। ওই কৃষকের নাম ফরিদুল ইসলাম (৫৫)। তিনি রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার দক্ষিণ কোয়ালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তেজনার পর কালেমা পড়িয়ে তাকে মুসলমান করা হয়।
জানা গেছে, একইদিন সন্ধ্যায় নাসিম আহমেদ নামের স্থানীয় এক তরুণের ফেসবুক থেকে মুসলমান ওই কৃষকের পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেবতাকে হাত তুলে প্রণাম করার ভিডিও পোষ্ট করা হয়। এর পরেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে স্থানীয় ভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। লোকজন তার শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রতিক্রিয়া জানান।
রাতেই পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে ওঠে৷ তাকে মুসলমান সমাজ থেকে বাদ দেওয়া ছাড়াও এখন আর তিনি মুসলমান নন বলে ঘোষণা দেন প্রতিবাদকারীরা৷
পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পর্যায়ে শুক্রবার রাতেই গ্রামে শালিস ডাকা হয়। সেখানে অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামকে হাজির করা হয়। তিনি ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা চান। এই ধরনের ইসলাম ধর্ম বিরোধী কাজ ভবিষ্যতে আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
পরে তাঁকে ওই ঘটনার জন্য তওবা ও কালেমা পড়ানো হয়। ওই মুসলমান সমাজের ইমাম অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাতিজা মাওলানা সাজ্জাদ হোসেন তাকে তওবা এবং কালেমা পড়ান। পরে লোকজন শান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে যান।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ( ২ অক্টোবর) বিজয় দশমির দিনে কৃষক ফরিদুল ইসলাম উপজেলার তাহেরপুরে পথিক সংঘ মন্দিরের মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমার কাছে গিয়ে হাত উঁচু করে প্রণাম করেন। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একজন মুসলমান মন্দিরে গিয়ে প্রতিমাকে এভাবে প্রমাণ করতে পারেন না। এটা করে তিনি মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে গেছেন বলেও ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, ফরিদুল ইসলাম লালন ভক্ত এবং মানসিক ভাবে সুস্থ। শালিসে তিনি ওই ঘটনায় ( দেবতাকে প্রণাম) দুঃখ প্রকাশ ও জোড়হাত করে ক্ষমা চেয়েছেন।
অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামের ভাতিজা মসজিদের ইমাম মাওলানা সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাঁর চাচা নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। লোকজনের দাবির প্রেক্ষিতে চাচাকে ধর্মীয় রীতি অনুসারে তওবা ও কালেমা পড়িয়ে মুসলমান করা হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।
স্থানীয় তাহেরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাইল রানা বলেন, ঘটনাটি জানা নেই। তবে ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নজরদারি করা ছাড়াও পুলিশ তৎপর রয়েছে।