১১ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৭ আগস্ট, ২০২৬

রাবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ

Admin Published: December 14, 2024, 1:12 pm
রাবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (১৪) ডিসেম্বর বেলা ১০টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এসময় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব।তিনি বলেন, ‘একটা সরকার যারা তিনটি টার্ম তাদের কোনো বৈধ্যতা ছিল না। কারণ যেভাবে নির্বাচন হয়েছে তাতে এটাকে বৈধ্যতা দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরেও বিক্রিত বুদ্ধিজীবী সমাজ সবসময়ই এটাকে আড়াল করে গেছে। তাদের যে দায়িত্ব ছিল সেটা তারা এক বিন্দুও পালন করেনি। তারা বিক্রি হয়ে গেছিল, তারা বিবেক বন্ধক দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বুদ্ধিজীবীরা কেউ মাথা নত করেননি। তারা জানতেন তাদের জীবন তাদের জীবন বিপন্ন কিন্তু তারা কেউই বিক্রি হননি। এই যে বুদ্ধিজীবীতার সাথে বিক্রি না হওয়ার যে ব্যাপারটা আছে এই ব্যাপারটাকে যদি জাগাতে না পারি তাহলে একটা দেশ ও জাতি বারবার বিভিন্নরকম সংকটের মধ্যে পড়ে। আজকের দিনে আমাদের শিক্ষা হওয়া উচিত বুদ্ধিজীবীতা, বুদ্ধিবৃত্তি, মুক্তচিন্তা এই সব জায়গায় গণমানুষের স্বার্থ এবং নিজের জ্ঞান বিবেকের ওপরে কোনো শ্বাসক শ্রেণির তাবেদারি কখনো স্থান পেতে পারে না। এই জায়গাটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এটা সুযোগ এসেছে আমাদের এই সমস্ত জায়গায় মনোযোগী হতে হবে। ’


বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এই দিনে অসংখ্য মানুষ তার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের দুঃসহ স্মৃতি আছে। আমাদের তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতিকে নিজের কাজ ও চেতনার মাধ্যমে ধারণ করতে হবে, আর যদি না পারি তাহলে এসব বৃথা যাবে। শুধু দিবসের মধ্যে নয়, আমাদের প্রতিটি কাজের মধ্যে এর প্রতিফলন থাকা উচিত। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। তারা যা চেয়ে গেছেন, আমরা কি তা বাস্তবায়ন করতে পারছি? আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কতটুকু জাগাতে পেরেছি?  যদি না পারি তাহলে সব কিছু বৃথা যাবে। আমরা আবার ব্যর্থ হব এবং একটা ২৪ এসেছে, হয়তো আরো ২৪ আসবে।’


উপ-উপাচার্য মাঈন উদ্দীন ইতিহাস উদঘাটনের বিষয়ে বলেন, ‘১৯৭২ সালের পর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যে কমিটি হয়েছিল তার প্রধান ছিলেন জহির রায়হান। ৭২ এর ত্রিশ জানুয়ারি মিরপুর যাওয়ার জন্য জহির রায়হানের কাছে একটা ফোন আসে। উনি এই ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান কিন্তু আর ফিরে আসেননি। জহির রায়হানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে খুবই মতভেদ আছে। বিষয়টি এখনো পর্যন্ত পরিষ্কার হয়নি। ৩০ জানুয়ারি বের হওয়ার পর কে তাকে হত্যা করলো, সেটা এখনো জানা যায় নি। কারো কারো মতে জহির রায়হান ৩০শে জানুয়ারির পরে আরো অনেক দিন বেচেঁ ছিলেন, অনেকদিন জীবিত রাখার পরে তাকে কোথাও হত্যা করা হয়েছে । ইতিহাসের এই বিষয়গুলোর সত্য উদঘাটন করা দরকার। ১৯৭১ সালের পর অনেক কিছুই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বা হারিয়ে গেছে। আজকের এই বুদ্ধিজীবী অনুষ্ঠানে আমরা চাইবো সকল অজানা ইতিহাস বের হয়ে আসুক।’


অনুষ্ঠানের শুরুতে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দারের স্ত্রী চম্পা সমাদ্দর। এরপর তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপার্চাযদ্বয় অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম সাদেকুল ইসলাম, হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী প্রমুখ।