স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির স্থানীয় প্রার্থী মনোনয়নের দাবিতে মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেলে পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস বাজারে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের খড়খড়ি বাইপাস বাজার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিছিল, শ্লোগান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তাঁরা সড়কের মাঝে শুয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিক্ষোভকারী দাবি করেন, তৃণমূলের মর্যাদা যখন বারবার উপেক্ষিত হয়, তখন এইভাবে রাস্তায় শুয়ে পড়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। তাঁদের অভিযোগ, রাজশাহী বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে স্থানীয় প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হককে। তিনি বহিরাগত হওয়ায় তৃণমূলে তাঁর প্রতি ‘আস্থাহীনতা’ তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতাকর্মীরা।
মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দাবি করেন, স্থানীয় নেতাকে উপেক্ষা করে বহিরাগতকে প্রার্থী দিলে সংগঠনের ভাঙন, কর্মীদের হতাশা ও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের ভাষায়, এই আসনে যারা বছরের পর বছর মামলা-হামলা মোকাবিলা করেছে, লাঠির সামনে দাঁড়িয়েছে, রাতের পর রাত ঘুমাতে পারেনি, প্রার্থী হওয়ার নৈতিক অধিকার তাঁদেরই।
বিক্ষোভ মিছিলে পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা খায়রুল ইসলাম বলেন, দলের কঠিন সময়ে এই এলাকার কর্মীরা বুক পেতে আন্দোলন করেছে। আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে, তবুও আমরা পিছিয়ে যাইনি। অথচ আজ আমাদের সামনে একজন বহিরাগত এনে দাঁড় করিয়ে বলা হচ্ছে, উনিই তোমাদের প্রার্থী। এটা আমাদের আত্মসম্মানের ওপর আঘাত। তৃণমূলকে অসম্মান করলে আন্দোলন ঠেকানো যাবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।
পবা উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমরা যে নেতাকে চিনি, যে দলীয় পতাকা বহন করে গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল আলমকে বাদ দিয়ে বহিরাগতকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূল কখনোই সেটা মেনে নেবে না।
এ সময় হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম, বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল হাজি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আউয়াল হোসেন, নওহাটা পৌর কৃষিদলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, পবা উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাজদার হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক কালু, প্রজন্ম-৭১-এর জেলা আহ্বায়ক মিলন হোসেন বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী-৩ আসনের এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তবে স্থানীয়রা তাবে বহিরাগত উল্লেখ করে স্থানীয় প্রার্থী রায়হানুল আলমকে মানোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে নানা কর্মসূচিন পালন করে আসছে।