স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে নওহাটা বাজারে সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভ শেষে তাঁরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে শুয়ে পড়েন। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ শ্লোগানে ফুঁসে ওঠেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে স্থানীয় প্রার্থী দেওয়া হলেও রাজশাহী-৩ আসনে বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হককে।
বিক্ষোভে অংশ নেন পবা ও মোহনপুর উপজেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এসময় বিক্ষোভকারীরা জানান, দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন স্থানীয় নেতা রায়হানুল আলম। মিছিলে, আন্দোলনে, দলের পাশে ছিলেন তৃণমূলের এই নেতা। অথচ তাঁকে বাদ দিয়ে বহিরাগতকে প্রার্থী করায় স্থানীয় নেতারা অপমানিত ও ভেঙে পড়েছেন।
পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা খাইরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী-৩ আসন সব সময় আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটি। যাঁরা দুঃসময়ে ছিল না, তাঁদের হঠাৎ প্রার্থী করা তৃণমূলের প্রতি অবিচার। এতে নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। দলকে শক্ত করতে হলে আন্দোলনের সময় যারা রাজপথে ছিল, তাদেরই মূল্যায়ন করা উচিত।
পবা উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু বিক্ষোভে বলেন, দলের কঠিন সময়ে শ্রমিক দল ছিল রাজপথে, রক্ত দিয়েছি, লাঠির মার খেয়েছি। অথচ আজ আমাদেরই এলাকায় বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে! তৃণমূলকে অপমান করলে দল শক্তিশালী হয় না, দুর্বল হয়। আমরা চাই স্থানীয়, পরীক্ষিত, একনিষ্ঠ নেতার হাতে এই আসনের দায়িত্ব দেওয়া হোক। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী পরিবর্তন না হলে রাজশাহী-৩ আসনে গণমানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মহাসড়কে শুয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি দলের ভবিষ্যৎ, তৃণমূলের মনোবল এবং আন্দোলনের শক্তি বজায় রাখতে রাজশাহী-৩ আসনে একজন স্থানীয়, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকেই প্রার্থী করতে হবে। স্থানীয় প্রার্থীর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকবে।