স্টাফ রিপোর্টার : পুরোদমে চলছে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি। তিনশ’র মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে শেষ পর্যায়ে রয়েছে একক প্রার্থী চূড়ান্তের প্রস্তুতি। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে মনোনয়নপ্রত্যাশি নেতাদের মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ পূর্বেই শেষ হয়েছে। এখন শুধুমাত্র চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পালা। আর কয়েকদিনের মধ্যেই দল মনোনীত প্রার্থীদের মাঠে নামার জন্য দেয়া হবে সবুজ সংকেত।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষেত্রে কয়েকটি ‘মানদণ্ড’ নির্ধারণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ, জেল-জুলুম আর মামলা, হামলা-নির্যাতন, সততা, এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং ক্লিন ইমেজ। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় গণমাধ্যম দলীয় বরাত দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করেছে। আর এসব গণমাধ্যমের সব কয়েকটির তালিকায় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে উঠে এসেছে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী অধ্যাপক কামাল হোসেনের নাম।
এরপরেই বাগমারায় অধ্যাপক কামালকে নিয়ে শুরু হয়েছে সর্বত্র আলোচনা। তিনি রাজশাহী-৪ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাবেন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস আর আস্থায় মাঠে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। কামালের গণসংযোগে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। দলমত নির্বিশেষে তার কর্মসূচিতে ঘটছে বাধভাঙা উচ্ছ্বসিত মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।
কিশোর বয়সে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন কামাল। বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কিশোর বয়সেই তিনি রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৯৪ সালে ভবানীগঞ্জ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে কামাল ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০১০ সালে বাগমারা উপজেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
বাগমারা উপজেলা যুবদলের দায়িত্ব সাংগঠনিক দক্ষতার সাথে পালনের কারণে বিএনপি এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পান অধ্যাপক কামাল হোসেন। এর স্বীকৃতিস্বরুপ কামালকে ২০১৬ সালে রাজশাহী জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। পরের বছর ২০১৭ সালে তিনি জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। দলীয় আনুগত্য, ত্যাগ এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে কামালের প্রতি আস্থা রেখে সর্বশেষ ২০২৪ সালে দল তাকে বাগমারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পর ২০০৩ সালে কামাল হোসেন ভবানীগঞ্জ কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি অধ্যাপনা করেন। এর মধ্যে কামাল সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও পদোন্নতি লাভ করেন। কলেজটিকে একপর্যায়ে সরকারিকরণও করা হয়। তবে রাজনীতি তথা দেশ এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকার থেকে সরে আসেন নি তিনি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের চরম দুঃশাসনে দলীয় নেতাকর্মীদের বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে এবং দলের বার্তা তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে ২০২২ সালের এপ্রিলে তিনি কলেজ শিক্ষকতার সরকারি চাকরি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। এরপর তিনি বিএনপির সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন।
আওয়ামী দুঃশাসনের দীর্ঘ দেড় দশকে হামলা, মামলা এবং কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অধ্যাপক কামাল। বিপদসঙ্কুল পথ জেনেও তিনি জাতীয়তবাদী আদর্শ থেকে পিছপা হন নি। প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। শাসকের রক্তচক্ষু তাকে টলাতে পারে নি। রাজনীতির মাধ্যমে এলাকা এবং মানুষের উন্নয়নে আরও নিজেকে আরও শক্তিশালী করেছেন। দলীয় রাজনীতিকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করে সর্বদা সক্রিয় থেকেছেন।
জুলাই গণভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেকে ভাসিয়ে দেননি অধ্যাপক কামাল হোসেন। এসময় আসনটির অন্যান্য দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অনেকেই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অল্প সময়েই অনেকে বিস্তর ধন-সম্পদের মালিক বনে যান। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কামাল। তিনি অন্যদের পথে না হেটে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয় সুনিশ্চিত করতে কোমর বেধে মাঠে নামেন। দিনরাত এক করে সংসদীয় আসনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছেন।
বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক প্রবীণ নেতা মাস্টার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কামাল সব সময়েই নিজেকে এসব থেকে দূরে রেখেছেন। কোনো ধরনের বিতর্ক তাকে স্পর্শ করতে পারে নি। নিজে যেমন সৎ, স্বচ্ছ এবং দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন, নেতাকর্মীদেরও তেমনটি থাকতে সদা পরামর্শ দিয়েছেন। একারণে কামাল গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। জয় করতে পেরেছেন মানুষের মন। দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেসব মানদণ্ড দিয়েছেন, সেগুলোর সবকিছুই কামালের মধ্যে বিদ্যমান। কামাল বাগমারায় অন্য যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাপক কামাল হোসেনের প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে। বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় নিয়মিত পথসভা, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এসব কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অধ্যাপক কামালের প্রচেষ্টা প্রশংসিত। তিনি দলকে সংগঠিত করতে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। কামাল ত্যাগী, সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং কর্মীবান্ধব হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি বাগমারার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন বলে আমরা আশাবাদী। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পেলে সবার সামনে দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
বাগমারা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহবায়ক রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন, অধ্যাপক কামালের সহজ-সরল ব্যবহার, তার বিনয় ও শিষ্টাচার, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনা তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। নির্বাচনী মাঠে সরব উপস্থিতি ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অধ্যাপক কামালকে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। জনগণ বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, কামালের ওপর আস্থা রাখা যায়। কামাল মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে বাগমারায় আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে। শান্তির সুবাতাস বইবে।
অপরদিকে বাগমারায় দীর্ঘ সময় থেকেই অধ্যাপক কামাল হোসেনের পরিবারের কয়েক প্রজন্ম থেকেই ব্যাপক সুনাম এবং পরিচিতি রয়েছে। কামালের বাবা আলহাজ আব্দুল গাফ্ফারের দাদা আলহাজ কসিম উদ্দিন ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। কসিম উদ্দিনের দানকৃত জমিতে বাগমারা উপজেলা কমপ্লেক্স, ভবানীগঞ্জ সরকারি বালক হাইস্কুল, ভবানীগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং ভবানীগঞ্জ কলেজ গড়ে উঠেছে। কসিম উদ্দিন বাগমারায় শিক্ষা বিস্তারসহ সামগ্রিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কামালসহ পাঁচ ভাইবোন সকলেই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সকলেই সুপ্রতিষ্ঠিত।
অধ্যাপক কামাল হোসেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সাতশ ব্যক্তি কাজ করেন। তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, অনাথ আশ্রম, স্কুল এবং কলেজে নিয়মিত দান করেন। বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সামগ্রী উপহার দেয়ার মাধ্যমে তিনি ক্রীড়াঙ্গনেও অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়া শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বর্নাত্যদের জন্য তিনি প্রতিবছর নিজের অনুসারীদের নিয়ে পাশে দাঁড়ান। হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও কামাল দলমত নির্র্বিশেষ সকল ধরনের মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা যুবদলের যুগ্মআহবায়ক রেজাউল করিম রাজু বলেন, অধ্যাপক কামাল হোসেন একজন মানবিক মানুষ। তৃণমূলে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। কামাল হোসেন সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং কর্মীবান্ধব রাজনীতিক। বাগমারার উন্নয়ন নিয়ে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের দুঃসময়ে তিনি পাশে থাকেন। দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি সবসময় প্রস্তুত। একারণেই তিনি জনগণের আস্থার প্রতীক।
তিনি বলেন, এসব বিবেচনায় অধ্যাপক কামাল হোসেন সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। বিএনপি হাইকমান্ড কামাল হোসেনকেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করবেন, এমন প্রত্যাশাতেই দলমত নির্বিশেষে বাগমারার আপামর জনতা অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ, বাগমারার উন্নয়নে কামালের মত পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিক দ্বিতীয়টি আর নেই। আর আমাদের বিশ্বাস, দলমত নির্বিশেষে আমজনতার আকাঙ্খাকে মূল্যায়ন করবে বিএনপির নির্বাচনী বোর্ড।