৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গম চরাঞ্চলে পাকা সড়ক নির্মাণ, নতুন আশায় চরবাসী

Admin Published: November 25, 2025, 1:40 pm
রাজশাহীর দুর্গম চরাঞ্চলে পাকা সড়ক নির্মাণ, নতুন আশায় চরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা সড়ক। চর মাঝারদিয়াড় থেকে চরনবীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকার কয়েক হাজার মানুষের। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে তারা নতুন আশার আলো দেখছেন। গত রবিবার এ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

পবা উপজেলা এলজিইডি’র কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. মোকবুল হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ একটি কঠিন কাজ। নরম মাটি, ভাঙন ও বর্ষায় পানির চাপ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবু আধুনিক নির্মাণ পদ্ধতি ও মানসম্পন্ন উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে এখানে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ৭ ইঞ্চি পুরুত্বের কংক্রিট ঢালাই পদ্ধতিতে, ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চমানের পাথরকুচি, রড, জিও সিট, বালু ও সিমেন্ট। বর্ষা মৌসুমে যাতে রাস্তায় পানি না জমে, তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক পেভমেন্ট ডিজাইন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রাস্তাটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৬২ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সৈকত এন্টারপ্রাইজ’ দুই কোটি ৩৬ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি সম্পন্ন করছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের পথ সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ। বর্ষায় কাদা-পানি, আর শুকনো মৌসুমে দমবন্ধ করা ধুলা। এই দুই ঋতুর যন্ত্রণা তাদের জীবনের অংশ ছিল। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নিতে হলে পরিবারদের ভোগান্তির সীমা থাকত না। এ অবস্থায় পাকা রাস্তা তাদের জীবনের নতুন আশির্বাদ হয়ে ধরা দিচ্ছে বলে মনে করছেন চরের বাসিন্দারা।

শামিম হোসেন নামের একজন বলেন, এই চরে কাদা আর পানির কারণে হাঁটা দায় হতো। খরায় ধুলায় চোখ খোলা রাখা ছিল। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা গেছে অনেকে। রাস্তাটি হলে আমরা একটু স্বস্তিতে বাঁচতে পারব। আরেক বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, সারা জীবন কাঁচা রাস্তায় হেঁটেছি। আজ পাকা রাস্তা হচ্ছে-এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।

এই রাস্তা পুরো চরাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আনবে বলে স্থানীয়দের আশা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান, সবজি, তিল ও ডালসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে আর অতিরিক্ত খরচ হবে না। সময় ও খরচ দুই-ই কমবে। 

চরনবীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, বৃষ্টির দিনে শিশুরা স্কুলে আসতে পারে না। রাস্তাটি পাকা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে থাকা পবার চরাঞ্চলে এই আরসিসি রাস্তাটি এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।