৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার মহাপরিকল্পনা, মতামত দিলেন নাগরিকরা

Admin Published: August 26, 2025, 6:35 pm
রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার মহাপরিকল্পনা, মতামত দিলেন নাগরিকরা

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনার আওতায় আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভা। রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন এবং নাগরিক সুবিধার প্রতিটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে প্রণয়ন করা হচ্ছে মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান)। এই মহাপরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আগে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ নিলো কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী কর্মশালায়

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় নওহাটা পৌরসভা কার্যালয়ে ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের সমস্যা, চাহিদা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নওহাটা পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) প্রশাসক জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, "অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা যেকোনো শহর একটা সময়ে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যানজট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা—এসবই অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফল। নওহাটা পৌরসভাকে যেন ভবিষ্যতে এই সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্যই আজকের এই উদ্যোগ। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি মতামতই এই মহাপরিকল্পনাকে সমৃদ্ধ করবে এবং একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নওহাটা গড়তে মূল ভূমিকা পালন করবে।"

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মহাপরিকল্পনার কারিগরি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিনিয়র নগর পরিকল্পনাবিদ মনজুরুল হাসান সাগর এবং নগর পরিকল্পনাবিদ গৌতম কুমার রায়। তারা জানান, এই মাস্টার প্ল্যানের আওতায় শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, পৌরসভার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিকগুলোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথায় শিল্প এলাকা হবে, কোথায় আবাসিক এলাকা থাকবে, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও পার্ক কোথায় হবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত স্থান কোথায় হবে—এসব কিছুই মহাপরিকল্পনায় নির্দিষ্ট করা থাকবে। এতে আগামী ২০ বছরের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাবে।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে নাগরিকরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এবিএম জহিরুল ইসলাম মাফি, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম এবং মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওয়ালিউল ইসলাম খান। তারা পৌরবাসীর উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আশ্বাস দেন যে, এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও জনঅংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দিনব্যাপী এই কর্মশালাকে নওহাটা পৌরসভার টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।