স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে পদ্মা বক্ষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই শুরু হয় বিসর্জন। দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে একে একে চলে প্রতিমা বিসর্জন। এর মধ্যে দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো।
বিকেলে রাজশাহীর পদ্মা নদীর মুন্নুজান ঘাটে শুরু হয়েছে বিসর্জন। দুুপুরের পর মহানগরীর পূজোমণ্ডপ থেকে একে একে ঘাটে আসতে শুরু করে প্রতিমা। এরপর নৌকায় তুলে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।
এর আগে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয় মন্ডপ থেকে। বিজয়া দশমীর দিনে নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করতে মহানগরীর পদ্মা নদীর মুন্নুজান, পঞ্চবটি, আলুপট্টি, ফুদকিপাড়া ও বড়কুঠি ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘাট এলাকাগুলোতে টহল বাড়িয়েছে পুলিশ ও র্যাব।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, রাজশাহী মহানগরীর প্রতিটি ঘাটেই রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শৃঙ্খলভাবে প্রতিমা বিসর্জন চলছে। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে মহানগরীর কুমারপাড়া, আলুপট্টি, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে রাজশাহীর তানোরে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৮টি পূজামন্ডপের প্রতিমা শিব নদীর ঘাটে ও বিভিন্ন এলাকার পুকুরে দেওয়া হয়।
এসময় উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, কাসর ঘন্টা আর ধুপ-ধোঁয়ার আরতিতে সেখানে এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরআগে কামারগাঁ বাজার মন্দির চত্বরে দুর্গার চরণে সিঁদুর ছোঁয়ানো ও হিন্দু নারীদের মধ্যে সিঁদুর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কামারগাঁ বাজার পূজা উদযাপন পরিষদ ওই সিঁদুর খেলার আয়োজন করে।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কামারগাঁ ও আশপাশের এলাকায় হিন্দু পূণ্যার্থী ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিপুল লোকের সমাগম হয়। বিসর্জনের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনছার সদস্যদের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব ভলান্টিয়াররাও দায়িত্ব পালন করেন।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যাম দত্ত বলেন, গত বছরের চেয়ে এবারে ৯টি পূজা বেশি। এবার দুর্গাপূজা ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং। দুর্গাপূজা শুরুর আগেই অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এবার দুর্গাপূজা অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ও শান্তি পূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গা উৎসবে সহযোগিতা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মিরা।
তাই নির্ভিঘ্নে পুজা বির্সজন করতে পেরে আমরা খুশি। উল্লেখ্য, পুরো তানোর উপজেলাজুড়ে এবার ৫৮টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত েেহয়ছে।