স্টাফ রিপোর্টার : করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এখনো এ হাসপাতালে কোনো করোনা রোগী ভর্তি না হলেও গত ১৫ দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন। যদিও তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি।
রামেক সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন প্রতিদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঁচ থেকে ১০ জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। কখনো কখনো নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে ২৫ জন পর্যন্ত। গত ১৫ দিনে সর্বনিম্ন চারটি ও সর্বোচ্চ ২৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ২ জুন একদিনেই ১৫টি নমুনার মধ্যে চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফসহ ৯ জনের শরীরে ভাইরাস পাওয়া যায়।
এ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২৫ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে। গঠন করা হয়েছে চিকিৎসক-নার্সদের বিশেষ দল, যারা প্রয়োজনে দ্রুত সেবা দিতে পারবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সবার উচিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা। বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া ঠান্ডা-সর্দিজনিত উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি নেই। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক খন্দকার মো. ফয়সল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। যে দুটি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, তাতে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না।
তবে তিনি জানান, ভারতের কিছু সাব-ভেরিয়েন্ট নিয়ে সতর্কতা জরুরি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সরকার বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ ফয়সল আলম। তিনি বলেন, সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করবে না।