স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা ও মহানগরে এবার ৪৬২ মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গোৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরের বিভিন্ন মন্ডপে শুরু হয়েছে প্রতীমা তৈরির কাজ। কারিগররা জোরেসোরেই শুরু করেছেন প্রতীমা তৈরির কাজ। এখন মাটির প্রলেপে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যে শুরু হবে প্রতিমায় রঙের কাজ। সোমবার রাজশাহী নগরীর ধর্মসভা মন্দিরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা শিল্পীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিমা ও মন্ডপের সাজসজ্জায় আনা হচ্ছে নানান বৈচিত্র্য। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়া হচ্ছে প্রতীমা।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও মহানগরে এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ৪৬২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৮২টি মণ্ডপ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবং বাকী ৮০টি মণ্ডপ মহানগরে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজা শুরু হবে। ইতিমধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসব পালনে জেরা প্রশাসন ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মহিনুল হাসান বলেন, দুর্গাপূজা সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হবে। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব। পূজাকে ঘিরে প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে জোরেশোরে। পূজা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি র্যাবের টহল থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে রাজশাহী নগরের মন্দির কেন্দ্রিয় তৎপরতা বাড়িয়েছে মহানগর পুলিশ। মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা প্রস্তুত থেকে শুরু করে পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে এসব পূজা মন্ডপকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ এই তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা টিম গঠন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে এবং তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দিতে হবে।
আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, নাগরিকরা সচেতন থাকলে রাজশাহীতে এবারের দুর্গাপূজা হবে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর।