স্টাফ রিপোর্টার :গত ৪৮ ঘন্টায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও চরম বিপাকে পড়েছেন নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষ। নিম্নাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক রাজাপুর, গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ, পবার চর মাজারদিয়া এবং নগরের নিম্নাঞ্চলে অনেক বাড়িতে পানি ঢুকেছে।
পদ্মানদী কেন্দ্রিক রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি উঠে টংঘর নিমজ্জিত হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে কোনো আয়-রোজগার করতে পারেন নি তারা। এখন কস্টে দিনাতিপাত করছেন। কবে নাগাদ পানি কমবে, কবে আবার ব্যবসা শুরু হবে এ অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। শুক্রবার রাজশাহী নগরীর পদ্মা নদী কেন্দ্রিক বিভিন্ন বিনোদন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
রাজশাহী নগরীর কেন্দ্রিয় ঈদগাহ সংলগ্ন লালন শাহ মুক্তমঞ্চ কেন্দ্রিক অন্তত একশ টংঘর ডুবে গেছে। এসব টংঘরে সকাল-বিকেল চা-কফি, ভাজাপোড়া, ফুচকা, চটপটি কেনাবেচা করে জীবিকা নির্বাহ করেন নদী তীরবর্তি বাসিন্দারা। এখন এসব ঘর নিমজ্জিত হওয়ায় তাদের ব্যবসাও বন্ধ। এ কারণে পরিবার, পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুহুল আমিন, সৈকত ইসলাম ও সোলাইমান বলেন, ‘বাজে অবস্থা চলছে ভাই। সব বন্ধ। ঘরে খাবার নাই। ত্রান-ট্রানও নাই। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে বিপাকে আছি। কবে পদ্মার পানি কমবে সে অপেক্ষায় আছি’।
পদ্মা সংলগ্ন বিনোদন কেন্দ্র টি-গ্রোয়েন, শ্রিরামপুর, বোলনপুর, হাইটেক পার্ক, বড়কুঠি সব এলাকার ক্ষুদ্র টংঘর ব্যবসায়ীদের এখন একই অবস্থা। নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় পাউবো বাঁধের পাশের বস্তিতে বাস করে অনেক পরিবার। বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর পানি এসে ঢুকেছে তাদের অনেকের বাড়ি-ঘরে। বস্তির বাসিন্দারা বলেন, আমরা শহরেই থাকি, কিন্তু বাস করি গ্রামের মতো। নদীতে পানি বাড়লেই ঘরবাড়ি ডুবে যায়’। নগরের পঞ্চবটি খড়বোনার বাসিন্দা আজরিন বিবি বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে পানির ভিতরেই আছি। কিছু তো করার নাই। তাকায় আছি যে কবে পানি নামবে।
এদিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুরে অনেক ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর খানপুর ও মাজারদিয়ারে পানি উঠেছে। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দাররা। তারা এখন বাধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলার গোদাগাড়ী ও পবার চরাঞ্চলে নদী তীরের ঘরবাড়ি বিলীন হতে শুরু করেছে। চরের বিস্তীর্ণ ফসনের ক্ষেত ডুবে গেছে।
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার চারঘাট পৌরসভার গোপালপুর গ্রাম ও চন্দনশহরের নদীতীর প্রায় এক কিলোমিটার অংশের একশ ফুট অঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পিরোজপুর-২ ও চন্দনশহরের প্রায় ৩০০ পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা টিন, বাঁশ ও গাছ ব্যবহার করে স্ব-উদ্যোগে নদীতীর রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি গত ৪৮ ঘন্টা ধরে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সময়ে পানি বৃদ্ধি হয় নি, কমেওনি। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (পদ্মার পানির উচ্চতা পরিমাপক) এনামুল হক জানান, সর্বশেষ শুক্রবার সকাল ৯ টা ও বিকেল ৩ টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি পরিমাপ করা হয় ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার। আগের দিন বৃহস্পকিবার ও বুধবারেও একই সমেয় পানির উচ্চতা ছিল একই। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিলো রাজশাহী পয়েন্টে ১৭ দশমিক ৪৬ মিটার। রাজশাহী শহরে পদ্মার পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। সে অনুযায়ী বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এখন পদ্মা।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, এখন পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস নাই। তবে স্থিতিশীলতার পর পানি কমতে পারে।#