স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর কোর্ট এলাকা থেকে অপহরণের শিকার এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ৮ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা অপহরনের পর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছিলো।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, নুর ইসলাম, মো. টিটু, সাজিদুর রহমান সাজিদ, রাজন ওরফে কাওছার, তারেকুল ইসলাম, রেজা আলম ও রাকিব মহসিন ওরফে রিয়াদ। এরা সবাই মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ওমর আলী (৫০) নামের এক আসামীকেও গ্রেফতার কার হয়েছে। সে জেলার বাগমারা থানার নরসিংপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২৪ আগস্ট রাজশাহী কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে থেকে জেলার বাগমারার সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা সোহেল রানার ছোট ভাইয়ের কাছে মোবাইলে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তারা ভিকটিমকে মারধর করে এবং সেই শব্দ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার ছোট ভাইকে শুনিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অপহৃত সোহেল রানার স্ত্রী রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশকে অবগত করলে, ডিবি পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। পরে অপহরণকারীরা কোর্ট স্টেশনের জামিল চত্বরে সোহেল রানার স্ত্রীকে মুক্তিপণের টাকা আনতে বলে। তিনি বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানালে, সোমবার সন্ধ্যায় আড়ালে থাকা ডিবি পুলিশের টিম মুক্তিপণের টাকা নিতে আসা অপহরণকারী নুর ইসলাম ও রাজন ওরফে কাওছারকে গ্রেফতার করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে নগরীর মহিষবাথান উত্তরপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রাখা অবস্থায় সোহেল রানাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে টিটু, সাজিদুর, তারেকুল, রেজা ও রাকিবকে আটক করা হয়। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি ওমর আলী, মাসুদ রানা এবং আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে রাজপাড়া থানার ঝাউতলা মোড় এলাকা থেকে পলাতক আসামি ওমর আলীকেও গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।