স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে পদ্মার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মানদী ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমানে পদ্মা বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির উচ্চতা পরিমাপক এনামুল হক জানান, বুধবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা তিনটার মধ্যে রাজশাহী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায়নি। সকাল ৯ টা ও বিকেল ৩ টায় একই উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা।দিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল ছাড়াও জেলার বাঘার চকরাজাপুর, গোদাগাড়ীর আষাড়িয়াদহ ও পবার চরখানপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে। বাঘার চকরাজাপুরের বিস্তীর্ণ ফসলে ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভাঙন শুরু হয়েছে নতুন এলাকায়। অনেকেই তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। আকস্মিক বন্যায় ইতোমধ্যে কয়েকশ হেক্টর ফসলি জমি হলিয় গেছে। প্রায় ৬০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরের বাসিন্দারা। এ অবস্থায় বুধবার জেলার বাঘা ও পবার চরে বানভাসিদের মাঝে ত্রানের চাল বিতরণ করেছেন দুই উপজেলার নির্বাহী অফিসার।
স্থানীয়রা জানান, বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের মাঠগুলো এখন থৈ-থৈ পানি। গলা পানিতে নেমে অনেকে কাঁচা ধান কাটছেন গো-খাদ্যের জোগান দিতে। চরাঞ্চলবাসীদের মতে, নিচ পলাশী ফতেপুর মাঠে সবচেয়ে বেশী ফসলহানী হয়েছে। মজিবর শিকদার নামের এক কৃষক জানান তার ১০ বিঘা পেঁপে বাগান কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।
চাকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম বলেন, চরের পলাশী ফতেপুর, কালিদাসখালী, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া এবং দিয়াড়কাদিরপুরের প্রায় ৬০০ বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় ৫০টি পরিবার নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানান, প্রাথমিক ভাবে ২২০টি পরিবার পানিবন্দী হওয়ার তালিকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার তাঁদের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।
অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত পবার চরাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের পাশে দাড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার সকালে উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম এলাকা চরখিদিরপুর, চরখানপুর ও চরতারানগরে নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের এই যৌথ উদ্যোগে প্রায় ২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই চরাঞ্চলগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সড়কপথ না থাকায় একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। নৌকা করেই সেখানকার মানুষের হাতে সরাসরি চালের বস্তা তুলে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পবার ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং সেই অনুযায়ী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা ও বাঘাসহ অন্যান্য উপজেলার প্লাবিত ও দুর্গম চরাঞ্চলেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষি সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।