৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীতে দ্রুত কমছে পদ্মার পানি

Admin Published: August 21, 2025, 5:40 pm
রাজশাহীতে দ্রুত কমছে পদ্মার  পানি

স্টাফ রিপোর্টার : যে হারে বাড়ছিলো রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি। এখন তার চেয়ে দ্রুত গতিতে কমতে শুরু করেছে। গত ৫ দিনে রাজশাহীতে পদ্মার পানি কমেছে প্রায় এক মিটার। সর্বশেষ বুধবার রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ মিটার। অথচ পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি এবার ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার উচ্চতায় উঠেছিল।

বুধবার রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (পানির উচ্চতা পরিমাপক) এনামুল হক বলেন, পদ্মা নদীর পানি এখন কমতির দিকে। প্রতিদিন তর তর করে নিচে নামছে। তিনি জানান, গত ১৫ আগস্টের পর থেকে পানি কমছে। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার করে পানি কমছে। আগামীতে আবার পানি বৃদ্ধি পাবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাড়তেও পারে। সেটি নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর।

এদিকে পানি কমলেও নিম্নাঞ্চল ও চরের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বাঘার চকরাজাপুর ও গড়গড়ি ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দী রয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে পবার চরাঞ্চলেও। এখন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা পানির সংকট, কাজ হারানো ও গো-খাদ্যের অভাবে পড়েছেন।

বাঘার চরের আতারপাড়া গ্রামের সুমন হাওলাদার জানান, পানি কমলেও তার ঘরের ভেতর এখনও পানি রয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে হয়েছেন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাশখালী, আতারপাড়া, পলাশী ফতেপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সবাই এখনো সরকারি সহায়তা পাননি।

তবে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চৌমাদিয়া গ্রামের ২২০ পরিবার ও খানপুর গুচ্ছগ্রামের ৮৫ পরিবারকে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, সহায়তা অব্যাহত আছে।

এদিকে পানি কমতে শুরু করার পর চারঘাট উপজেলায় নদীতীরে ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছেন তীরবর্তি মানুষ। চারঘাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন গোপালপুর ও চন্দনশহর গ্রাম সংলগ্ন প্রায় এককিলোমিটার দীর্ঘ এ এলাকায় প্রায় একশ ফুট ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় অন্তত এক হাজার পরিবার। ভাঙন প্রতিরোধে তারা নিজেরা টিন, বাঁশ ও গাছ দিয়ে প্রতিরোধের চেস্টা করছেন। ভাঙন তীব্র হওয়ার আগেই স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছেন গোপালপুর নদী পাড়ের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির পর আবার কমতে শুরু করেছে। এখনো তেমন ভাঙনের খবর আসেনি। তবে ভাঙন দেখা দিলে পাউবো থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত শঙ্কার কারণ নেই বলেও জানান তিনি।