৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

ফুলেফেঁপে উঠেছে পদ্মানদী

Admin Published: August 12, 2025, 11:57 pm
ফুলেফেঁপে উঠেছে পদ্মানদী

স্টাফ রিপোর্টার : উজান থেকে ধেঁয়ে আসা পানির তোড়ে রাজশাহীতে ফুলেফেঁপে উঠেছে পদ্মা নদী। গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পদ্মানদীর পানি এখন বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার সংকেতসীমা অতিক্রম করেছে পদ্মার পানি প্রবাহ। ফলে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর এপারের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।এছাড়া জেলার গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ, নীমতলা ও বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় ভাঙন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজশাহী নগরীর টি-গ্রোয়েণ এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধে যানবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও জনসাধারণের চলাচল সীমিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওপার (চরাঞ্চল) থেকে চরবাসী গবাদি পশু ও মালপত্র নিয়ে লোকালয়ে ফিরে এসেছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মানদী ১৭ দশমিক ৪৪ উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। আগের দিন সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি ছিল ১৭ দশমিক ৩৯ মিটার। আর রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূন্য ০৫ মিটার। ফলে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। গত কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো দুদিন পানি বৃদ্ধির পর কমতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর। তিনি বলেন এবার পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতেও পারে। 

তিনি জানান, এর আগে ২০১৩ সালে রাজশাহীতে পদ্মার পানি সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৭০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো। সে বছরই বিপদসীমা অতিক্রম করেছিলো। এরপর ২০১৯ সালে প্রবাহিত হয়েছিলো ১৮ দশমিক ১ মিটার উচ্চতায় আর ২০২১ সালে বিপদসীমার ১ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো। এবার এখন পর্যন্ত বিপদসীমার খুব কাছ দিয়ে অর্থাৎ ১৭ দশমিক ৪৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই থেকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। সেদিন পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৩৫ মিটার। তারপর আবার তা কমে যায়। আবার একই মাসের ৩১ জুলাই থেকে পানি বাড়তে থাকে। তারপর থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর এলাকার প্লাবিত হয়েছে। 

এদিকে মঙ্গলবার রাজশাহী নগরীর আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তি অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। আম ও লিচুবাগানে পানি ঢুকেছে। সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। বুলনপুর, বসরি, হাড়ুপুর, তালাইমারী, বাজেকাজলা, জাহাজঘাট ও পঞ্চবটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ওপারের চর খিদিরপুরের চরগুলো ডুবে গেছে। ফলে চরের বেশিরভাগ মানুষ লোকালয়ে চলে এসেছেন। এছাড়া গবাদি পশুগুলো নদী থেকে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। চরের বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিন বাড়ছে পদ্মার পানি। এ অবস্থায় অনেকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে চলে এসেছেন। কেউ কেউ ভাড়া বাড়িতে উঠছেন। তবে যাদের গবাদি পশু রয়েছে তারা পড়ছেন বিপাকে। 

রাজশাহী পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার বলেন, পদ্মা নদীর পানিতে অনেক চর ডুবে গেছে। অনেকের বাড়ির কাছাকাছি পানি উঠে গেছে। অনেকেই চর ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তারা গবাদি পশুর নিয়ে। 

এদিকে জেলার বাঘায় পদ্মায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে ফসলী জমি হারিয়ে গেছে অনেকের। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের দিয়ারকাদিরপুর চরের বাসিন্দারা জানান, এবার যেহারে পানি বাড়ছে এ অবস্থা চলতে থাকলে সব নদীগর্ভে চলে যাবে। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে অন্য এলাকায় চলে গেছেন। সরিয়ে নেয়া হয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ভাঙ্গনের কারণে এ পর্যন্ত তিনবার স্থানান্তর করা হয়েছে বিদ্যালয়টি।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারনে চরাঞ্চলে বিশেষ করে বাঘার চকরাজাপুর ও গোদাগাড়ীর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ভাঙন ঠোকাতে আপদকালীন জিওব্যাগ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।