৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের প্রতীকি ক্লাস-পরীক্ষা, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস রামেবির

Admin Published: September 9, 2024, 6:27 pm
রাজশাহীতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের প্রতীকি ক্লাস-পরীক্ষা, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস রামেবির

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে এবার এবার ‘প্রতীকি ক্লাস ও বইপড়া’ কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) নার্সিং অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশমারের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

কর্মসূচিতে রামেবি অধিভুক্ত উত্তরাঞ্চলের ২৩টি নার্সিং কলেজের বিএসসি কোর্সের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট সরকারি নার্সিং কলেজ এবং সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবিতে কদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেন শিক্ষার্থীরা।

নার্সিং শিক্ষার্থীরা জানান, রামেবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা বৈষম্যের শিকার। তারা এর অবসান চান। আন্দোলনের সমন্বয়ক আমানুল্লাহ আমান বলেন, প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ও পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের প্রতীকি ক্লাস ও বই পড়া কর্মসূচি। আমরা উচ্চ পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। দ্রুতই সমাধান হবে।

এদিকে রামেবির সহকারি রেজিস্ট্রার রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন,  উদ্ভূত পরিস্থিতে নার্সিং অনুষদের স্থগিত পরীক্ষা দ্রুত শুরু করার প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, মহামারি করোনাজনিত কারণে নার্সিং অনুষদের আওতাধীন অধিভুক্ত নার্সিং প্রতিষ্ঠানের বিএসসি ইন নার্সিং শিক্ষার্থীদের সেশন জট তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশ করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ণশীপ শেষ করে আগামী কম্প্রিহেনসিভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে এবং সেশন জট কমানোর জন্য ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিলো। 

কিন্তু সম্প্রতি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক,  রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও উপাচার্য পদত্যাগ করেন। বর্তমানে রামেবিতে উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ পরিদর্শকসহ সকল বিভাগীয় প্রধানের পদ শূন্য। এমনকি ডেপুটি পর্যায়েরও কোন কর্মকর্তা নাই। ফলে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও রামেবিতে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার মত সিগনেটরী কোন কর্মকর্তা না থাকায় নার্সিং এর স্থগিত পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি চলমান বিডিএস, হেলথ্ টেকনোলজির পরীক্ষাও বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতে অতি দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সদা প্রস্তুত রয়েছেন।  

তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতে পরীক্ষা শুরু করতে বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য রামেবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সহকারি কলেজ পরিদর্শক (চ.দা.) বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলেও (বিএনএমসি) যোগাযোগ করেছেন। বিএনএমসি কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতে বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা।