স্টাফ রিপোর্টার : ‘থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত তৃতীয় পর্যায়ের টিওটি কোর্স শুরু হয়েছে। রবিবার রাজশাহীর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
এসময় পুলিশ কমিশনার বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখেনি। অতীতের নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও বিতর্ক ছিল। কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় নিয়েছে, যা দেশ ও বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পুলিশই হচ্ছে লিডিং ফোর্স। নির্বাচনের সময় পুলিশ সদস্যদের বুঝতে হবে, এই দায়িত্ব মূলত পুলিশেরই। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের সহযোগী হিসেবে থাকবে।
আরএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ হওয়ায় প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব নয়। যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের প্রত্যেকেই হতে হবে সচেতন, দায়িত্বশীল ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় দক্ষ। নির্বাচন চলাকালীন পুলিশের প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। সুতরাং, পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে মনে রাখতে হবে কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা গাফিলতির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের লক্ষ্য হলো দেশবাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। তিনি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি প্রশিক্ষণটি অত্যন্ত মনোযোগী হয়ে ও দায়িত্ববোধ নিয়ে গ্রহনের আহ্বান জানান।
এসময় রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-এর এআইজি (কমিউনিটি অ্যান্ড বিট পুলিশিং) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) গোলাম রব্বানী শেখ ও ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) কামরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন। আরএমপি ও রাজশাহী জেলা পুলিশ এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।