৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষ ॥ আহত ১০

Admin Published: July 18, 2024, 5:06 pm
রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষ ॥ আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাটডাউনের সমর্থনে শিক্ষার্থীরা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে জড়ো হতে থাকলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল পুলিশ বক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে একজনের ঘাড়ে চাপাতির কোপ লেগেছে সে নগরীর শাহমখদুম কলেজের ছাত্র।
এছাড়া আহতদের মধ্যে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীও রয়েছেন। এছাড়াও শহরের ভুবনমোহন পার্ক এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রলীগের এক কর্মী আহত হয়েছেন। রাণীবাজারে আহত হয়েছেন এক যুবলীগকর্মী। এছাড়া মিয়াপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে এক পথচারী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে জড়ো হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এদিকে কোটা সংস্কারের জন্য ডাকা দেশব্যাপী শাটডাউনের কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহর ঘুরে কোথাও শাটডাউনের সমর্থনে কোনো কর্মসূচি পালন করতেও দেখা যায়নি। শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অফিস-আদালতেও স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চলছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা মাঠে ছিলো। তবে বৃহস্পতিবার এ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ করার প্রতিবাদে আগের দিন বুধবার রাবি শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তারকে দুপুরে অবরুদ্ধ করে। সন্ধ্যায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন। এরপর উপাচার্যকে মুক্ত করে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
রাবির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যার ওই অভিযানের পর শিক্ষার্থীদের অনেকেই বাসায় চলে গেছে। হলগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও শিক্ষার্থীদের জটলা নেই। ক্যাম্পাস অনেকটাই নীরব। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে অল্প কিছু পুলিশ সদস্যকে বসে থাকতে দেখা গেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো পুলিশ নেই। পেছন দিকে চারুকলা বিভাগের পাশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বসে ছিলেন। রাজশাহী কলেজের সামনের দুই ফটকই তালাবদ্ধ দেখা গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
শাটডাউন ডাকা হলেও সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, শাটডাউনের ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। বাস স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কোথাও কেউ বাধাও দেয়নি।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকেও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে গেছে। স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, আন্দোলন যখন জোরদার ছিল, তখন রেললাইন অবরোধের কারণে কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় হয়েছিল। এখন স্বাভাবিক রয়েছে। শাটডাউন ডাকা হলেও ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে।
রাজশাহী মহানগরীতে রিকশা, অটোরিকশা এবং অন্যান্য যানবাহনও স্বাভাবিক চলাচল করতে দেখা গেছে। অন্যান্য দিনের মতো শহরের কিছু কিছু এলাকায় যানজটও দেখা গেছে। দোকানপাট, বিপণিবিতান খোলা রয়েছে। জনজীবনে শাটডাউনের কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত (বেলা আড়াইটা) আমরা শাটডাউনের কোনো প্রভাব দেখিনি। তার পরও আমরা সতর্ক আছি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ রয়েছে। কাউকেই সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে দেওয়া হবে না।’#