৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬

রামেক হাসপাতালে চালু হলো সাপে কাটা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড

Admin Published: October 23, 2025, 6:31 pm
রামেক হাসপাতালে চালু হলো সাপে কাটা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড

স্টাফ রিপোর্টার :সাপে কাটা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। এটি দেশের কোনো হাসপাতালে সাপা কাটা রোগীদের জন্য প্রথম ওয়ার্ড। মৃত্যুহার কমাতে রামেক হাসপাতাল বিশেষায়িত ওয়ার্ডটি চালু করল।

বৃহস্পতিবার রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ ওয়ার্ডটির উদ্বোধন করেন। হাসপাতালের পুরনো ক্যানটিনের জায়গায় ১২ শয্যার হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) মানের এই ওয়ার্ডটি করা হয়েছে। সাপে কাটা রোগীদের শ্বাসকষ্ট হয়, হার্ট ফেইল করার ঝুঁকি থাকে। এসব সমস্যারও চিকিৎসা হবে এ ওয়ার্ডে।

হাসপাতালে আসা সাপে কাটা সব রোগীই চিকিৎসা পাবেন। তবে শয্যা পাবেন ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি বর্তমানে রাসেলস ভাইপার সাপের বিষের ওপর পিএইচডি করছেন, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২০৫ জন সাপে কাটা রোগী এসেছেন। এরমধ্যে ২৬০ জন বিষধর সাপের কামড় নিয়ে এসেছিলেন। বাকিরা নির্বিষ সাপের কামড় নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে ৩০ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয় রাসেলস ভাইপারের কামড়ে। বাকিরা কালাচ বা কেউটে ও গোখরা সাপের কামড়ে মারা গেছেন। মৃত্যুহার কমিয়ে আনার জন্য ডেঙ্গু, করোনা ও নিপাহ ভাইরাসের মতো সাপে কাটা রোগীদের জন্যও বিশেষায়িত ওয়ার্ড করার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ। এ জন্য আগে চিকিৎসক ও নার্স বাছাই করা হয়। তাদের স্নেকবাইট ন্যাশনাল গাইডলাইন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়।

ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাপে কাটা রোগীদের এন্টিভেনমের প্রতিটি ডোজের মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা। একটি ডোজে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম লাগে। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ প্রয়োজন হয়। রোগীরা হাসপাতাল থেকেই পুরোপুরি বিনামূল্যে এই ওষুধ পাবেন। রোগী ওয়ার্ডে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার চিকিৎসা শুরু হবে। এক মিনিটও বিলম্ব হবে না।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ বলেন, ‘সাপে কাটা রোগীরা এমনিতেই দেরি করে হাসপাতালে আসেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালেও চিকিৎসা শুরু হতে একটু দেরি হতো। দেখা যেত, বড় একটা ওয়ার্ডের এক কোণায় রোগীরা থাকতেন। এখন ভাল হলো। এটা একেবারেই মেডিকেল ইমার্জেন্সি ইউনিট, এইচডিইউ সুবিধাও থাকছে। এখানে ২৪ ঘণ্টাই ডাক্তার থাকবেন।’