স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী রোগীর পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় গত ১৪ অক্টোবর এ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেবকে। এছাড়া সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী) ডা.ইফতেখার মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদাকে সদস্য-সচিব এবং হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ময়েজ উদ্দিনকে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি চিঠি বৃহস্পতিবার অভিযোগকারীকেও দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির সূত্রে শুক্রবার এ তথ্য জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পবা উপজেলার বেড়পাড়া গ্রামে প্রতিবেশীর হামলায় জখম হন নয়ন (১৭) নামের এক যুবক। ওইদিন রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরের দিনও তার চিকিৎসা করা হয়। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাউন্ডে এসে এক ডাক্তার (নাম জানা যায়নি) হঠাৎ করেই রোগীর ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন।
এসময় রোগীর সঙ্গে থাকা তার মা কারণ জানতে চাইলে রাগান্বিত হয়ে ওই ডাক্তার বলতে থাকেন, ‘এরা তো ডাকাত, রাতের বেলা চুরি-চামারি করে, মারামারি করে আর দিনের বেলায় চিকিৎসা নিতে আসে’। এদের চিকিৎসা হবে না’-বলে তিনি অন্য রোগীর কাছে চলে যান। এ ঘটনার পর তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী রোগীর বাবা অটোরিকশা চালক মো. মাসুম আলী রামেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর আবেদন করেন। প্রেক্ষিতে ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ ব্যাপারে যোগযোগ করা হলে রামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. মো. আবু তালেব বলেন, ভুক্তভোগী রোগীর পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।