স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে আওয়ামী সরকারের আমলে রোষানলে পড়ে একাডেমিকভাবে ২১টি মামলায় পড়তে হয়েছে শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজকে। স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব, ডিজি, ও রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতি রাজনৈতিক পক্ষপাতদূষ্ট আচরণের কারণে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশও বাস্তবায়ন করা হয় নি। এমন কি আদালত অবমাননার মামলা করেও রায় মানানো যায় নি। এমন নানা অভিযোগ এনে ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা ১২ টায় শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের সহজলভ্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা, দেশের স্বাস্থ্য-শিক্ষা সম্প্রসারণ, দেশী-বিদেশী চিকিৎসক তৈরীর লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২১ জুলাই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা শুরু করা হয়। ২০১০ সালে এমবিবিএস ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আবেদন করলেও স্থানীয় তৎকালীন এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের বাধা বিপত্তির কারণে কলেজটি তখন অনুমোদন প্রাপ্ত হয়নি। ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১৪ সালে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মধ্যে দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে কলেজটির কার্যক্রম সাময়িক স্থাগিত করে, বহু কাঠ-খড়ি পুড়িয়ে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে এটি পুনরায় নিয়মিত কলেজের মর্যাদা পায়।
তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে এই কলেজকে অধিভূক্তির নামে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য্য করে। এক পর্যায়ে অধিভুক্ত স্থগিত করে। প্রতিনিয়ত বৈষমের শিকার হয়ে নির্যাতিত কলেজটি ৭ম ব্যাচ পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালে আদেশ উপেক্ষা করে তৎকালীন ২৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে পার্শ্ববর্তী বারিন্দ মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন করে। ২০২১ সাল থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বন্ধ করে।
তিনি আরো বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার আইন অনুসারে আমাদের সকল শর্ত প্রায় পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী দুঃসাশনের সুযোগে হয়রানী অব্যাহত ছিল। এই কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদকে জামায়াত-বিএনপি পৃষ্ঠপোষক ট্যাগ দিয়ে আনুমানিক দুইশ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।
এ অবস্থায়ন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান চলতি সেশনসহ পরবর্তী সেশনে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুযোগ, দোষী ব্যাক্তিদের আইনে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।