৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৫ আগস্ট, ২০২৬

সেই হিমাগারে নির্যাতনের মামলা তুলে নিতে হুমকি, থানায় জিডি

Admin Published: October 10, 2025, 5:46 pm
সেই হিমাগারে নির্যাতনের মামলা তুলে নিতে হুমকি, থানায় জিডি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের হিমাগারে তিনজনকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন মামলার বাদী। এ অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে মামলার বাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানায় এই জিডি করা হয়।

জিডিতে মামলার বাদী উল্লেখ করেন, হিমাগারে তিনজনকে নির্যাতনের ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর তিনি বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা করেন। নির্যাতনের শিকার তিনজনকে দেখতে বৃহস্পতিবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে শোনেন, হেলমেট পরিহিত এক ব্যক্তি তাকে বাড়িতে খুঁজতে গিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তাকে না পেয়ে তার নানিকে বলে আসেন, যে মামলা করেছেন তা তুলে নিতে হবে। তা না হলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। তার নানি যেন তাকে এ কথা জানিয়ে দেন। হুমকি দেওয়া ব্যক্তি বাদীর নানিকে আরও জানিয়ে যান, তার আরও নাতি আছে। তারা সবাইকেই চেনেন। মামলা না তুললে তাদেরও ক্ষতি হবে। এতে তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মামলার বাদী বলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেলেই যে মামলা রেকর্ড হওয়ার কথা, সেটা রেকর্ড করতে পুলিশ গড়িমশি করে রাত ৯টা পর্যন্ত বাজিয়ে দেয়। লম্বা এই সময়ে আসামিপক্ষ লোক পাঠিয়ে আমাদের মোটা টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন মামলা না করার জন্য। পুলিশই মামলা রেকর্ড করতে বিলম্ব করে তাদের এ সুযোগ করে দিয়েছিল। আমরা টাকার কাছে বিক্রি না হয়ে মামলা করেছি। এখন মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি।

জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট থানার ওসি ফারুক হোসেন শুক্রবার বলেন, জিডিটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের হিমাগারে ডেকে নিয়ে এক তরুণ, এক নারী ও এক কিশোরীকে নির্যাতন করা হয়। তাঁদের আটকে রেখে মারধরের পাশাপাশি শরীরে সেফটিপিন ফুটিয়েও নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ঘটনায় আহসান উদ্দিন সরকার জিকো (৪৫), আঁখি (৩৫) ও হাবিবা (৪০) নামের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিনই তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান।