৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৪ আগস্ট, ২০২৬

স্কুলে প্রযুক্তির ছোঁয়া, দক্ষ জনশক্তি গড়তে প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

Admin Published: July 3, 2025, 1:24 pm
স্কুলে প্রযুক্তির ছোঁয়া, দক্ষ জনশক্তি গড়তে প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বৃহস্পতিবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় এই বিদ্যালয়টিতে স্থাপন করা হয়েছে কারিগরি ল্যাব, যা হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।

এই যুগান্তকারী ল্যাবটির উদ্বোধন করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় এখনকার বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের প্রয়োজন কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ একটি প্রজন্ম। নওহাটার এই ল্যাবটি সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, টিআর প্রকল্পের আওতায় সারা বাংলাদেশে এটিই প্রথম কারিগরি ল্যাব, যা পবা থেকে শুরু হলো। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের সমৃদ্ধি আনবে এবং দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। তিনি সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও যোগ করেন, এই ল্যাবের প্রতিটি যন্ত্র আধুনিক ও যুগোপযোগী। আমরা প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করেছি। আমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, এই ল্যাব তোমাদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ। এটি সরকারের পক্ষ থেকে তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় বিনিয়োগ। এর প্রতিটি যন্ত্রের ব্যবহার ভালোভাবে শিখে নিজেদের দক্ষ করে তোলো, কারণ তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ কারিগর। তোমাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের সেরা প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা।

নতুন এই ল্যাব পেয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ জানায়, এত দিন আমরা বইয়ের ছবি দেখেই যন্ত্রপাতি সম্পর্কে জেনেছি। কীভাবে একটি মোটর কাজ করে বা ওয়েল্ডিং করতে হয়, তা শুধু কল্পনা করতাম। এখন সরাসরি যন্ত্রে কাজ করার সুযোগ পাব, যা আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করবে।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য তুলে ধরে বিস্তারিত বক্তব্য দেন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির। তিনি বলেন, সাধারণত টিআর কর্মসূচি দিয়ে আমরা রাস্তাঘাট, সেতু বা কালভার্টের মতো গ্রামীণ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করে থাকি। কিন্তু সরকার এখন মানবসম্পদ উন্নয়নকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ একটি দেশের সেরা অবকাঠামো হলো তার দক্ষ ও শিক্ষিত নাগরিক। এই ভাবনা থেকেই আমরা শিক্ষা খাতে এই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছি এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছি।

এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, ভোকেশনাল শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই হলো কর্মমুখী জ্ঞান প্রদান। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে আমরা শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারিক জ্ঞান দিতে পারছিলাম না। এই ল্যাব আমাদের সেই সীমাবদ্ধতা দূর করল। এটি শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, পুরো অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষার প্রসারে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।