স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানকে মারপিট করে খাদ্যগুদামে অটকে রাখার অভিযোগ উঠেচে। দু:স্থ অসহায় জনগোষ্ঠির জন্য মাসিক বরাদ্দ প্রকল্পের আওতায় প্রতি বস্তায় চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিতের শিকার হন উপজেলার কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টু। খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বুধবার উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি (গুদাম কর্মকর্তা) আতিকুর রহমান ভিডাব্লিউভি প্রকল্পের আওতায় প্রতি বস্তায় তিন থেকে পাঁচ কেজি করে চাল কম দেন। বিষয়টি নিয়ে উপকারভোগীরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যান প্রতি বস্তায় চাল কম দেওয়ার কারণ জানতে চান। এতে গুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়াও তার অনুসারিদের দিয়ে চেয়ারম্যানকে বেধড়ক পেটান। এখবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা খাদ্যগুদামের মুল গেটের সামনে অবস্থান নেয়। পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টু বলেন, বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ টি ওয়ার্ডের দু:স্থ অসহায়দের প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী ৪৫৪ জনকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা ছিল। এজন্য সকাল ৯টার দিকে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম রাজাসহ কয়েকজন মেম্বার ও দফাদার মিলে কামারগাঁ খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে পরিষদে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রতিবস্তা ওজন করে ৫০ কেজির বিপরীতে শতাধিক বস্তায় ৩/৫ কেজি করে চাল কম পাওয়া যায়। পরিষদ থেকে খাদ্যগুদামে গিয়ে ওসিএলএসডির কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া মাত্রই তিনি ক্ষিপ্ত উঠেন। এসময় তার সাথে থাকা কামারগাঁ গ্রামের মশিউর পায়ের স্যান্ডেল খুলে তাকে পিটিয়ে মুল গেটে তালা মেরে তাকে আটকে রাখে।
চেয়ারম্যান মিন্টু আরও বলেন, মোবাইলে তিনি ইউএনওকে অবহিত করেন। এরপরে ইউএনওর নির্দেশে তানোর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে পরিষদে নিয়ে আসেন। পরিষদে এসে চালের বস্তা ওজন করে কমের সত্যতা পান।
উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আতিকুর রহমান জানান, খাদ্যগুদাম থেকে চাল বের হয়ে যাওয়ার পর কিছুই করনীয় থাকে না। এ বিষয়টি চেয়ারম্যানকে বুঝানো হয়। তবে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করা হয়নি, তার সঙ্গে অকথ্য কথাবার্তা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেনে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শেখ মলিউজ্জামান সজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকে রাখা চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তিনি সমাধান করেছেন। আর চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।