স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর মোল্লাপাড়া এলাকায় ৫৩ বছর ধরে বসবাস করে আসা আদিবাসী পাড়াড়িয়া সম্প্রদায়কে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুর। আজ শুক্রবার খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে বসবাসকারী বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো। তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমালোচনা ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পিছু হটেছে প্রভাবশালীরা।বৃহস্পতিবার ওই মহল্লায় পরিদর্শণ করেছেন আরএমপির কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী। তিনি জমি দখলের প্রভাবশালী সাজ্জাদ আলীকেও ডেকে আনেন। সেখানে বসবাসকারী বিশনি বিশ্বাস পুলিশকে বলেন, ‘এখানেই আমাদের জন্ম জায়গা (জন্মস্থান)। আমরা যদি এখানে থাকতে পারি, থাকতে চাই।
এলাকার বাসিন্দা আসাদ আলী পুলিশের সামনে বলেন, এখানে এরা ৬২ বছর ধরে বাস করছে। এই জমির মালিক ইন্দ্রা ধোপা। সাজ্জাদের কথা আমরা শুনিনি। অথচ এখন সেই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সাজ্জাদ আলী। তবে দলিল হাতে নিয়ে সাজ্জাদ দাবি করেন, এই জায়গা তিনি ১৯৯৪ সালে কিনেছেন।
এদিন মানবাধিকার ও আদিবাসী সংগঠনের নেতারাও সেখানে আসেন। ওসি আজিজুল বারী সাংবাদিকদের বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা (আদিবাসীরা) কখনও আগে থানায় যাননি। তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে যেটা সুষ্ঠু সমাধান হয়, সেটা করব। আপাতত এখানকার বাসিন্দারা এভাবেই থাকবেন। জমির কাগজপত্র চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, রাজাশাহী সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ার এই জায়গার দাম এখন কয়েক কোটি টাকা। ৫৩ বছর আগে এখানে প্রথমে ছয়টি পরিবার বাড়ি করার সুযোগ পায়। তিন প্রজন্মে বাড়ি হয় ১৬টি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের তিন দিন পর একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারি সাজ্জাদ আলী সেই জমির মালিকানা দাবি করেন।
সাজ্জাদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বসবাসকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু টাকার বিনিময়ে জমি দখল করেছেন। ইতোমধ্যে তিনটি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বাকি ১৩ জনকে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল রবিবার। এজন্য শুক্রবার সাজ্জাদ আলী খাসি জবাই করে সবাইকে খাওয়ানোর আয়োজন করেছিলেন।