৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬

ভারী বর্ষণে লন্ডভল্ড বরেন্দ্রের কৃষি

Admin Published: November 1, 2025, 11:29 pm
ভারী বর্ষণে লন্ডভল্ড বরেন্দ্রের কৃষি

স্টাফ রিপোর্টার : একরাতের ভারী বর্ষণে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কৃষকের উঠতি ফসল। ধ্বসে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি। ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবজির। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। ডুবেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে কৃষির ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও দুর্গাপুরের কৃষকরা। গেল বর্ষায় অবিরাম বর্ষনেও এত ক্ষতি হয়নি বলে মনে করছেন কৃষকরা।


জেলার তানোর উপজেলার কৃষকরা জানান, শুক্রবার রাতভর টানা ভারি বর্ষণ হয়েছে। এতে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে। পুকুর খালে গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া, কামারগাঁ, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় বিস্তীর্ণ উঠতি (কাচাপাকা) আমন ধান নুইয়ে গেছে। উপজেলার  শতাধিক পুকুর ভেসে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় গাছ-পালা উপড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ার বিদ্যুৎহীন ছিলো অনেক এলাকা।

শনিবার তানোরের বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ মাঠের ধান নুইয়ে পড়েছে জমিতে। মাঠের পর মাঠ একই দৃশ্য। তালন্দ ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হান্নান, তোফাজ্জল, বাদল ও হাসান আলী বলেন, ঝাড়ো হাওয়া ও রাতভর বৃষ্টির মাঠের ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাসন করা নাহলে ধানের চরম ক্ষতি হবে।

তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় গ্রামের নিষান আলী বলেন, আমন ধানের জমিতে যে পরিমাণ পানি ঢুকে আছে তাতে দ্রুত নিষ্কাসন নাহলে ধানে গাছ গজিয়ে উঠবে। এতে কৃষকরা চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে। কৃষকরা বলছেন, এবছর আমন রোপণের সময় থেকে প্রচুর বৃষ্টির পানি ছিল। তাই কৃষকরা সব জমিতেই আমনের চাষ করেছেন।

কৃষকরা বলেন, শনিবার সকালে বৃষ্টি থামলেও আরো বৃষ্টির শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে আছেন। আমনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে বলে মনে করছেন তারা। শুধু আমনের ক্ষতি হয়নি, টানা বর্ষণে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিস্তীর্ণ সবজি খেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

তানোর উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে। সব মিলে এ উপজেলায় ২০৩ হেক্টর আমন ধান ডুবেছে। এরমধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। 

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এবার আমনের চাষাবাদ হয়েছে উপজেলায় ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি। অবশ্য বৃষ্টির পানি একেবারে থেমে গেলে এর সঠিক হিসেব পাওয়া যাবে। 

কৃষকের এমন ক্ষতি শুরু তানোরে নয়, জেলার মোহনপুর, গোদাগাড়ী, পবা ও দুর্গাপুর এলাকায় ব্যাপক সব ধরনের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। 

পবা উপজেলার ভেড়াপোড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ, অফিস কক্ষ এবং মাঠ হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে একরাতের বৃষ্টিতে। পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। 

শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে স্কুল প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে গেছে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও শিক্ষাসামগ্রী পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, স্কুল ভবনের চারপাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। ফলে বর্ষাকালে প্রায়ই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।