স্টাফ রিপোর্টার : ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন কোনো জালিমের সৃষ্টি না হয় মন্তব্য করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, গত ১৫ বছর ফ্যাসিজম কায়েমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যেটি বেশি ভূমিকা রেখেছে তা ছিল ট্যাগিংয়ের রাজনীতি। কথায় কথায় ‘রাজাকার’। তার বাবারই জন্ম হয়নি ৭১ সালে সে সন্তানকে আপনি ‘রাজাকার’ বলেন। কথায় কথায় ‘শিবির’। কেমন শিবির? নামাজ পড়লে শিবির। দাঁড়ি রাখছে এজন্য সে শিবির। টাকনুর ওপরে প্যান্ট পরে এজন্য শিবির। মেয়েদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করে না এজন্য সে শিবির। মাদকাসক্ত হয় না এজন্য সে শিবির। কত নির্মম এই রাষ্ট্র!
আগামীতে কোনো ধরনের ট্যাগিংয়ের রাজনীতি চলবে না বলে জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম। রবিবার রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়ায় অনুষ্ঠিত সাথী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি একবার হরতাল চলাকালে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিশ্বজিৎ নামের একজনকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মিডিয়ার সামনে। সারাবিশ্ব দেখেছে সেই চিত্র। তাদের (হত্যাকারীদের) অভিযোগ ছিল বিশ্বজিৎ শিবিরের হিন্দু শাখার সদস্য। কতটা হাস্যকর, কত নির্মম!
তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ পানি সন্ত্রাস নিয়ে কথা বলেছিল। তাকে ‘শিবির’ আখ্যায়িত করে সাপের মতো পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের যদি চিত্র হয় এই...এটি দুই একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। বাংলাদেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে, প্রতিটি অলিতে-গলিতে, ক্যাম্পাসের প্রতিটি রুমে রুমে, হলে হলে এ ধরনের হাজার হাজার গল্প লুকায়িত আছে।
রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথি সমাবেশে তিনি আরে বলেন, আন্দোলনের ক্রেডিটকে দলীয় ও ব্যক্তি পরিচয় দেয়ার চেষ্টা চলছে। প্রকৃত অর্থে এই আন্দোলন সবার। এই আন্দোলন ছিল জালিমের বিপক্ষে। এজন্য অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন কোনো জালিমের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি নির্মুল করতে হবে।
রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি সিফাত আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহনগর জামায়াতের আমীর ডা. মওলানা কেরামত আলী, রাজশাহী মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন, মহানগর যুব বিভাগের সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।