৬ ভাদ্র, ১৪৩৩
২১ আগস্ট, ২০২৬

বাঘার সাবেক ইউএনও শাম্মীর দুর্নীতির তদন্ত ও শাস্তি দাবি

Admin Published: August 17, 2026, 6:00 pm
বাঘার সাবেক ইউএনও শাম্মীর দুর্নীতির তদন্ত ও শাস্তি দাবি
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মধ্যেই তাঁর বদলির পর গতকাল (১৬ আগষ্ট) নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোগদান করেছেন। তবে শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধু বদলির মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এর আগে গত ২৬ জুলাই বাঘা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তারা তাঁর অপসারণ দাবি করেন। এর একদিন পর ২৭ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় বদলির আদেশ দেয়। তবে সেখানে যোগদান নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বর্তমানে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন ইউএনও যোগদানের পর বাঘায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও সাবেক ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা থামেনি। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, ইউএনও শাম্মী আক্তার গত প্রায় আড়াই বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশা-পাশি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাঘা ও আড়ানী পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। একই কর্মকর্তার ওপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় প্রশাসনিক ভারসাম্য দুর্ণীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও অভিযোগ করেন তারা।এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষার তালিকা প্রকাশ ও পরীক্ষা গ্রহণ-সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগও করেন বিএনপি নেতারা। এসব অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। 

বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল রেহাসেন ও উপজেলা যুবদল নেতা সালে আহাম্মেদ (সালাম) বলেন, অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে এতদিনের গোপন তথ্য সামনে আসবে। তাদের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং ভুয়া প্রকল্প করে অর্থ আত্নসাৎ সহ পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের সময় আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, “শুধু বদলি করলেই অভিযোগের নিস্পত্তি হয় না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে বদলির পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকে যাবে।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউএনও শাম্মী আক্তার। তিনি দাবি করেন, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। কতিপয় বিএনপি নেতার অনৈতিক দাবি ও তদবির না রাখায় সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ সহ অপপ্রচার চালানো হয়েছে ।

বাঘায় নতুন ইউএনও যোগদানের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হবে। একই সঙ্গে সাবেক ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।