২২ কার্তিক, ১৪৩৩
০৬ নভেম্বর, ২০২৬

বিএমডিএ’র কার্যক্রম পরিদর্শন করে কৃষিমন্ত্রী জানালেন নতুন পরিকল্পনা

Admin Published: November 5, 2026, 4:33 pm
বিএমডিএ’র কার্যক্রম পরিদর্শন করে কৃষিমন্ত্রী জানালেন  নতুন পরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরী।আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজলোয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে পল্টুন থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে সরমংলা খাল পরিদর্শন করেন। সেখানে কৃষক ও বিএমডিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। গোদাগাড়ী উপজেলার কলিপুর-৩ এলাকায় সোলার ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সেচের কাজে ব্যবহারে পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ কর্যক্রম সর্ম্পকে অবহিত হন।

মতবনিমিয় সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ এলাকার মানুষ কৃষিজীবী এবং কৃষকবান্ধব। এখানকার মানুষ  মনেপ্রাণে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষির প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিকাজে ভূ-র্গভস্থ পানির ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে শুধু বরেন্দ্র অঞ্চল নয়, বিশ্বব্যাপীই ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ কারণে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা নদী থেকে পানি এনে কৃষিকাজে ব্যবহারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণ করতে সরকার একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রকল্পটির প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অনুমোদন পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরস্থি পানির ব্যবহার আরও বাড়বে। সরকারও চায় না কৃষিকাজে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হোক। নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা হলে একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে নদীর পানিতে থাকা পলি কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।


সোলার সেচ ও নেট মিটারিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রায় ১৭হাজার ডিপ টিওবয়েলকে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পে স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ এর ব্যবহার বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেচের কাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যুৎ এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি ও জ্বালানি খাতের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


এর আগে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান(গ্রেড-২) সংস্থার চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রীকে বিস্তারিত বিবরণ করেন গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএমডিএ’র ৭১৬টি গভীর নলকূপ  রয়েছে। এ ছাড়া ১১৮ কিলোমিটার খাল ও খাড়ি পুনঃখনন, ৪৬২টি পুকুর পুনঃখনন এবং ৪১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকদরে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সেচ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৭৬ হাজার ৩৪৫ জন কৃষক উপকৃত হচ্ছেন।

এছাড়া সরমংলা খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার। খালটির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা নদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য দুটি পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গোদাগাড়ী কলিপুর-৩ সোলার সেচ প্রকল্পে ৪৫টি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। ১৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার পাম্পের মাধ্যমে ২৬৪ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে ৭৪ জন কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


এ সময় বিএমডিএ’র অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. মোঃ আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল লতিফ,  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সহ কৃষি সম্প্রসারণ, বিএডিসি, বিএমডিএ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।