৬ ভাদ্র, ১৪৩৩
২১ আগস্ট, ২০২৬

বিশ্ব শিক্ষক দিবস : প্রজন্মের মূল্যবোধ ও দায়বদ্ধতার এক প্রাসঙ্গিকতা

Admin Published: October 5, 2025, 12:24 am
বিশ্ব শিক্ষক দিবস : প্রজন্মের মূল্যবোধ ও দায়বদ্ধতার এক প্রাসঙ্গিকতা

কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বাবুল : আজ ৫ অক্টোবর।বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এটি কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং শিক্ষা, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সামগ্রিক দায়বদ্ধতার এক প্রতীক। শিক্ষক কেবল পাঠদাতা নন, তিনি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা, নৈতিক দিকনির্দেশক এবং মানবিকতার আলোকবর্তিকা।

১৯৯৪ সালে UNESCO ও ILO যৌথভাবে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, ১৯৬৬ সালের “ILO/UNESCO Recommendation concerning the Status of Teachers”-এর স্মরণে। এর উদ্দেশ্য ছিল—শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টি। বর্তমানে শতাধিক দেশে এই দিনটি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে পালিত হয়।


একজন প্রকৃত শিক্ষক পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনের শিক্ষা—আচরণ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা। তাঁর হাতেই গড়ে ওঠে একজন সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক। তাই শিক্ষক দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে পুনর্মূল্যায়ন করা, শ্রদ্ধা ও মূল্যবোধের বন্ধনকে দৃঢ় করা।


কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই সংকটকে স্পষ্ট করেছে। এক শিক্ষার্থী তার সনদ উত্তোলনে প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক চাপে ফেলে অন্যায় দাবি আদায়ের চেষ্টা করার খবর মিলেছে—যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষকের সম্মানের পরিপন্থী। 


একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া 

উপ-উপাচার্য  শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা শিক্ষার মৌলিক দর্শনের বিপরীতে অবস্থান করে। শিক্ষা যদি নৈতিকতা ও সহনশীলতার পরিবর্তে হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও অনাদর শেখায়, তবে তা প্রজন্মের মানসিক বিকাশের জন্য ভয়াবহ অশনি  সংকেত!


সভ্য হিসেবে পরিচিত 

জাপানের সমাজে শিক্ষকদের প্রতি যে সম্মান বিদ্যমান, তা বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত। সেখানে শিক্ষককে বলা হয় “Sensei” অর্থাৎ “জ্ঞানী গুরু”। শিক্ষকরা গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণের সুযোগ পান, বিক্রেতারা তাঁদের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করেন, এবং সাধারণ মানুষ ভিড়ভাট্টার মাঝেও তাঁদের জন্য সিট ছেড়ে দিতে গর্ববোধ করে। জাপানি সমাজ বিশ্বাস করে—“একজন ভালো শিক্ষক মানেই একটি সঠিক প্রজন্ম।”


শিক্ষক দিবস শুধুমাত্র শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি শিক্ষার মূল দর্শন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পুনর্বিবেচনার সময়। প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের দায় !


যে সমাজ তার শিক্ষককে মর্যাদা দেয়, সেই সমাজই সভ্যতা ও জ্ঞানের পথে এগিয়ে যায়। মর্যাদাশীল শিক্ষক কমিউনিটির দেখানো পথেই সুনাগরিকদের সৃষ্টি হয়। যেমন এরিস্টটলের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত আলেকজান্ডার বিশ্বজয়ের আলো ছড়িয়েছিলেন—তেমনি আজও প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও শ্রদ্ধার এই শিক্ষাই নতুন প্রজন্মের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে। অকালকুষ্মান্ডদের জন্য এ মহান পেশায়  সেরামেধাবীরা যেনো অনাগ্রহী না হয় ! 

লেখক : গবেষক এক্টিভিষ্ট, কমিউনিটি কেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও পরিচালক ,মমতা নার্সিং ইনস্টিটিউট, রাজশাহী