স্টাফ রিপোর্টার : মাছ ধরার চায়না ফাঁদ ও হানিট্র্যাপ ব্যবহারের কারনে বরেন্দ্রসহ দেশের জলাভূমির প্রাণবৈচিত্র্য চরম হুমকিতে পড়েছে। এ অবস্থায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব বন্ধে জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার রাজশাহীর একটি হোটেলের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার, গ্রিন কোয়ালিশন-রাজশাহী ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজশাহীর পদ্মা নদীসহ আশপাশের নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার নদী, খাল-বিল ও মৌসুমি জলাশয়ে নির্বিচারে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল, ছাতা জাল ও মোনোফিলামেন্ট। এছাড়া প্রযুক্তি নির্ভর লেডলাইট, রাসায়নিক হানিট্র্যাপ ও ইলেকট্রিক ফিশিং ডিভাইস মাছ ধরার কাজে ব্যবহার হচ্ছে নদী ও জলাভূমিতে। শুধু তাই নয়, দ্রুত মাছের বৃদ্ধিতে হরমোনাল ইনজেকশন ও বন্ধ্যাত্বকরন ট্যাবেলেটও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশি মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও সামগ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এতে জেলে ও জলাভূমি নির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পবা উপজেলার বারনই নদী পাড়ের মৎচাষী আবু সামা বলেন, দুয়ারি জাল ব্যবহারসহ মাছ বৃদ্ধির জন্য হরমোনাল ইনজেকশন এবং বন্ধ্যাত্বকরণ ট্যাবলেট খাওয়ানো হয় মাছকে। তিনি আরো বলেন, পুকুরে এসব ব্যবহার করলেও বৃষ্টি এবং বন্যার কারনে তা মুক্ত জলাশয়ে যায়। ফলে অন্যান্য জলজপ্রাণীর উপরও এর প্রভাব পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জানান, সাম্প্রতিক মাঠ গবেষণা ও নৃবৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে এইসব প্র্রযুক্তিগুলো স্বল্পমেয়াদে কিছু জেলের আয় বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে জলাশয়কে কার্যত ‘মৃত’ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাসায়নিক হানিট্র্যাপে ব্যবহৃত উপাদান জলাশয়ে জমে থেকে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের
স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি আরো বলেন, এসব নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি এবং
মাছ শিকার করার রাসায়নিক হানিট্র্যাপ নির্বিচারে অনলাইনসপে বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইনে এসব বিষয়ে নিষিদ্ধের কথা বলা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না। ফলে অবাধে এসব পণ্য দেশে ভেতরে আমদানি বা অবৈধ পথে প্রবেশ করছে।
সংবাদ সম্মেনে মৎস্য চাষীদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর অন্যতম হলো, জলাভূমিতে বিষ, হানিট্র্যাপ, বৈদ্যুতিক শক ও অবৈধ মাছ ধরার উপকরণ অবিলম্বে নিষিদ্ধ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চায়না থেকে আমদানি করা হরমোন মাছ শিকার করা বিষ, হানিট্র্যাপ, বৈদ্যুতিক শক ও অবৈধ মাছ ধরার উপকরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, বিদ্যমান মৎস্য ও পরিবেশ আইন কার্যকর করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় লোকায়ত ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে স্বীকৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।