৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

ঈদের আগেই বেড়েছে মুরগির দাম

Admin Published: March 13, 2026, 12:56 pm
ঈদের আগেই বেড়েছে মুরগির দাম

ডিএনএন ডেস্ক:সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ঈদের আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে মুরগির বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২৫ থেকে ৩৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। ডিমের ডজনেও বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। অন্যদিকে ঈদকে ঘিরে সেমাই ও চিনির বিক্রি জমে উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর খিলক্ষেত, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, আগারগাঁও কাঁচাবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজা শুরুর আগের দিন ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে আসে। তবে পরে আবার বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা।


একইভাবে সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে। গতকাল এসব মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। তবে গরুর মাংসের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে; বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা দরে।


খিলক্ষেত কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা রাহাত বলেন, প্রতি বছরই ঈদের কয়েকদিন আগে মুরগির দাম বাড়ে। তবে এবার পাইকারি বাজারে ১০ রোজার পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে চাহিদা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। ফলে দাম কমার সম্ভাবনা কম।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মাছের বাজারে ভিড় করছেন। অনেককে আবার মুরগির দাম শুনেই দোকান থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।


কয়েকদিন ধরে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা গেলেও এখন সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের তেলই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংকটের সময় লিটারে চার থেকে সাত টাকা বাড়া দাম এখনো বহাল রয়েছে।


ঈদের এখনো ৭ থেকে ৮ দিন বাকি থাকলেও সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলা সেমাই নামে পরিচিত সাধারণ মানের সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।


এদিকে সবজির বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা রোজার শুরুতে ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া উচ্ছে ৭০ থেকে ৮০, শিম ৪৫ থেকে ৫০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০, শসা ৪০ থেকে ৫০ এবং আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম আগের মতোই ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি রয়েছে।


মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি; আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।