ভোটাধিকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু এই অধিকার যদি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়, তা দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশে জাল ভোটকে আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
জাল ভোট বলতে বোঝানো হয় এমন ভোট, যেখানে প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেননি। উদাহরণস্বরূপ, অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট দেওয়া, ভোটারের অনুপস্থিতিতে ব্যালট দেওয়া, কাউকে জোর করে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করা বা একাধিকবার ভোট দেওয়া।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জাল ভোটের অভিযোগ ওঠেছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনের প্রতি অনাস্থা তৈরি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোও জাল ভোটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সামান্য যেসব ভুলেই বাতিল হতে পারে আপনার ভোট
সামান্য যেসব ভুলেই বাতিল হতে পারে আপনার ভোট
বিস্তারিত পড়ুন
ডিএনএন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এইবার জাল ভোট প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবিলম্বে মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাল ভোটের শাস্তি
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, জাল ভোট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৩-৮৭ অনুচ্ছেদে ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ধারা রয়েছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য আছে।
জাল ভোট হিসেবে গণ্য করা হয় এমন কাজসমূহ:
কোনো প্রার্থীকে সুবিধা দিতে বা বাধা দিতে অন্যের সাহায্য প্ররোচিত করা।
ভোট দেওয়ার যোগ্য না হলেও ভোট প্রদান করা বা ব্যালট চাওয়া।
একই কেন্দ্র থেকে একাধিকবার ভোট দেওয়া বা ব্যালট চাওয়া।
একাধিক কেন্দ্র থেকে একই নির্বাচনে ভোট দেওয়া বা ব্যালট চাওয়া।
ভোট চলাকালীন কোনো ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলা।
জ্ঞাতসারে অন্যকে এসব কাজ করতে প্ররোচিত করা।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের সতর্ক থাকা জরুরি, আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জাল ভোট প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা পালন করছে।