৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

জুলাই সনদ বাতিল চেয়ে রিটের শুনানি ১ মার্চ

Admin Published: February 25, 2026, 1:20 pm
জুলাই সনদ বাতিল চেয়ে রিটের শুনানি ১ মার্চ

ডিএনএন ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক চেয়ে রিটের শুনানির জন্য ১ মার্চ দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট করেন। পাশাপাশি এর কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। 


রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে। 


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে এর ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশকে’।


ওই আদেশে আরও বলা হয়, সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি কমিশন গঠন করে। তাদের দেওয়া সুপারিশে জাতীয় ঐকমত্যের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।


এরপর কমিশন গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও জোটের  সহিত আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সুপারিশসংবলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে এবং রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো সম্মিলিতভাবে উক্ত সনদে স্বাক্ষর ও তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন এবং সে উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধান সংস্কার করার অবশ্যকতা রয়েছে।   

এ আদেশ অনুসারে গণভোট সম্পন্ন হয়। এতে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।



আদেশের সাত ধারায় বলা হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ ও গণভোটের ফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এটি সম্পন্নের পর পরিষদের কার্যক্রমটি সমাপ্ত হবে। ৮, ৯, ১০ ধারায় শপথ, সভা প্রধান নির্বাচন ও কোরাম পরিচালনা নিয়ে বলা হয়েছে। ১১ ধারায় দায়মুক্তি, ১২ ধারায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে।

   

বিএনপি জুলাই সনদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সংসদের নিম্ন কক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠনে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে। দলটি নিম্ন কক্ষে নির্বাচিত সদস্যের হার অনুযায়ী উচ্চ কক্ষ গঠনের কথা বলেছে। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবে না, এই প্রস্তাবে ভিন্নমত দিয়েছে বিএনপি। পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে দলটি।


এসব কমিশনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের কথা বলেছে বিএনপি।