স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে জ্বালানি তেলের জন্য পাত্র হতে পাম্পে অপেক্ষার দীর্ঘ লাইন কৃষকদের। প্রতিদিন ৪ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন শত শত কৃষক। তেল দেয়ার খবরে পাম্পের সামনে আগে থেকেই থেকে পাত্র হাতে যারা অপেক্ষা করছেন তারাও চাহিদা মত তেল পাচ্ছেন না। ৩শ' টাকা থেকে ৫শ' টাকার তেল নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে কৃষকদের। চাহিদামত তেল না পাওয়া কৃষকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় এসব কৃষকদের চেহারায় ফুটে উঠছে হতাশার ছাপ।
রাজশাহীর তানোর উপজেলা কৃষি প্রধান এলাকায় পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো চাষ। তবে এসব কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রের তেল পেতে কৃষকরা ছুটছেন এই পাম্প থেকে ওই পাম্পে। যখন যে পাম্পে তেল দেয়ার খবর পাচ্ছেন সেই পাম্পে ছুটছেন কৃষকসহ মটরসাইকেলসহ চালকরা।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা তেল সংকটের আশঙ্কায় সারা দেশের মত তানোরের কৃষকসহ জ্বালানি তেলের ব্যবহারকারীরা তেল সংগ্রহ করে মজুদ করতে শুরু করেন। ফলে, পাম্প গুলো গ্রাহকদের চাহিদামত জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। যে পাম্প গুলো এক গাড়ি তেল বিক্রি করতেন ১০ দিন থেকে ১৫ দিনে সেই পাম্প গুলোতে তেল আসার দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল। মঙ্গলবার দুপুরে তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকা মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলে ৩শ' টাকার করে পেট্রোল দেয়া হলেও অকটেন নেই। অপরদিকে ভুটভুটি ও ট্রলির দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি পাওয়ারট্রিলাে ও কৃষি যন্ত্রের পাত্রেরও দীর্ঘ লাইনে রেখেছেন কৃষকরা। ডিজেল দেয়া হচ্ছে ৫শ' টাকার করে। এভাবে চলতে থাকা অবস্থায় বিকাল ৩টার সময় তেল শেষ হয়ে গেলেও লাইনে তেল নিতে অপেক্ষায় রয়েছেন শতাধিক মটরসাইকেল ও ভুটভুটি এবং পাত্র হাতে অর্ধশত কৃষক।
তানোর উপজেলার কলমা ইউপির বিল্লি গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরের মুন্ডমালায় বিশ্বাশ ফিলিং স্টেশনে তেলের জারকিন হাতে এসেছেন আব্দুস সামাদ নামের এক কৃষক। বিকাল ৩ টার সময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, তেল দেয়ার খবর শুনে সকাল ৬টার সময় পাম্পে এসেছি এখন পর্যন্ত তেল পাইনি। তিনি বলেন, তার আগেও শত শত কৃষক জারকিন হাতে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। তিনি আরো বলেন, জমিতে চাষের ট্রাক্টর ও ট্রলির জন্য তেল না পেলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে।
হঠাৎ তেল শেষ হওয়ার খবরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন দীর্ঘ ৪ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করা শতাধিক মটরসাইকেলের চালকরা। এসময় সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই মোতায়েনকৃত পুলিশ সদস্যদের উপর চড়াও হতেও দেখা গেছে। এক পর্যায়ে তেলের ট্যাংকি পরীক্ষা করার পর ফিরে যান মটরসাইকেলসহ চালকরা। এর কিছু পরেই শেষ হয়ে যায় ডিজেল। এসময় অর্ধশতাধিক কৃষক ফিরে যান তেল ছাড়াই খালি পাত্র হাতে। এসময় কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠে হতাশার ছাপ।
বাধাইড় ইউপির কৃষক বাবুল হোসেন তিনি বলেন, আলু উত্তোলনের পর স্টোরজাত করতে ট্রলির জন্য এবং বোরো রোপনে জমিতে চাষের জন্য ট্রাক্টরের তেল শেষ হয়ে গেছে। সকাল ৭টায় এসেছি সকাল ৮টা থেকে তেল দেয়া শুরু হয়েছে। এখন বিকাল ৩টা। এখনো তেল পাননি, তেল নিতে না পারলে তার কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ৫শ' টাকার ডিলের পাওয়া জারকিন হাতে মুন্ডমালার এলাকার কৃষক আব্দুল করিম বলেন ফজরের নামাজের আগে লাইনে জারকিন নিয়ে দাড়িয়েছি লাইনে প্রায় ৮ ঘন্টা পর ৫শ' টাকার তেল পেলাম।
মুন্ডমালা বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিক খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে গাড়ি ভর্তি তেল পেতাম এখন সাপ্তাহে একদিন বা দুইদিন তেল পাচ্ছি যার পরিমানও আগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ। সকাল ৮টা থেকে কৃষকদের ৫শ' টাকার করে ডিজেল তেল দেয়া হচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তিনি বলেন, তেল দেয়ার খবরে রাত থেকেই শত শত কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন তাদের কৃষি যন্ত্রের তেলের জন্য। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন শত শত কৃষক। কৃষকদের জন্য তেলের বরাদ্ধ বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, কৃষকদের ভোগান্তি দুর করতে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ রেখে তেলের বরাদ্ধ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, এখন পুরোদমে কৃষকরা আলু উত্তোলন ও পরিবহনের পাশাপাশি বোরো রোপনের কাজ করছেন। একারনে তেলের জন্য কৃষকরা পাম্পে ভীড় করছেন। আশা করছি বরাদ্ধ বাড়ানো হবে। আরো ১০ / ১৫ দিন লাগবে আলু উত্তোলন পরিবহন ও বোরো রোপনের জন্য। তিনি আরো বলেন, তেল সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। তবে, কৃষকরা ভোগান্তিতে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, কৃষি প্রধান তানোর উপজেলার কৃষকদের কৃষিযন্ত্রের তেলের বরাদ্ধ বাড়ানোর জন্য ডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ডিজেলের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য চাহিদা দেয়া হচ্ছে। আশা করছি বরাদ্ধ বাড়ানো হবে। কৃষকদেরকে সঠিক ভাবে তেল সরবারাহের জন্য পাম্প মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।