৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

অব্যবহৃত ছাদে রুফটপ সোলার প্রযুক্তি অগ্রাধিকারের দাবি

Admin Published: February 22, 2026, 5:02 pm
অব্যবহৃত ছাদে রুফটপ সোলার প্রযুক্তি অগ্রাধিকারের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্খিত রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। 

রবিবার রাজশাহী নগরীর পঞ্চবটি এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিবর্তন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-রাজশাহী, ক্লিন বাংলাদেশ এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে যুব প্রতিনিধি ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন। অন্যান্যদের মধ্যে নারী নেত্রী ফরিদা বেগম, আবেদা বেগম, পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন, ক্যাম্পেইন এসোসিয়েট রনি রায় ও সোমা ভৌমিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

বক্তারা আরও বলেন, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর উপায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই একটি শক্তিশালী জ্বালানি রূপান্তর শুরু করা সম্ভব।

কর্মসূচি থেকে বক্তারা উল্লেখ করেন, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত ছাদ রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাস পাবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

কর্মসূচি স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা। প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান। জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত এবং

পরিবেশবিনাশী জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ।