৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

‘অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সরবরাহে ব্যর্থতা হামের প্রাদুর্ভাব’

Admin Published: March 30, 2026, 5:23 pm
‘অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সরবরাহে ব্যর্থতা হামের প্রাদুর্ভাব’

স্টাফ রিপোর্টার:অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়মতো টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণেই দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার কারণে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ছে।


তিনি বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দেশে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হলেও পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে সংক্রামক রোগ বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।


হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে টিকা দেওয়া হলেও চার মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণের কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি। এ বিষয়ে গবেষণা হলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।



সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক- একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

রামেক হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, হাসপাতালটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ শয্যা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৯০০ রোগী চিকিৎসাধীন, যা স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউতেও সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বর্তমানে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আইসিইউর ওপর চাপ কমানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


হাসপাতালে শিশুদের সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে হাসপাতালে কাজ শুরু করেছেন। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে হামের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


এর আগে তিনি হাসপাতালের হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।