১১ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৭ আগস্ট, ২০২৬

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে স্বল্প জীবনকালীন ও উফশী ফসল চাষের আহ্বান

Admin Published: December 18, 2024, 5:15 pm
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে স্বল্প জীবনকালীন ও উফশী ফসল চাষের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত ‘স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল জনপ্রিয় বিভিন্ন ফসলের জাতসমূহ সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্তিকরণ’ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাজশাহী পোস্টাল একাডেমির হল রুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিনা, ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভোজ্যতেলের দেশীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও আমদানি নির্ভরতা কমানোতে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল জাতগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ, স্বল্প খরচে উচ্চফলনশীল হওয়ায় কৃষকেরাও এই জাতগুলো চাষাবাদের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন। তাই এই জাতগুলোর চাষাবাদ আরও বাড়ানো জরুরি।  

রাজশাহী অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদুল ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল আলিম, বিনা, ময়মনসিংহের পরিচালক (প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিস) ড. মঞ্জুরুল আলম মন্ডল ও বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।  

 বক্তরা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ দানা জাতীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করলেও তেল, চর্বি ও প্রোটিনের দৃষ্টিসমৃদ্ধ শসা বিশেষভাবে তেলজাতীয় উৎপাদনে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। যা এসডিজি ২০৩০ এর পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের যে লক্ষ্য মাত্রা সেটি অর্জনের প্রধান অন্তরায়। তাই ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণের জন্য এখন সময় এসেছে যুগোপযোগী চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে তেল জাতীয় ফসলে উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা। এ বিষয়ে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল, স্বল্পজীবনকালীন, খরাসহিষ্ণু ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু বিভিন্ন ফসলের জাতসমূহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে কৃষকদের মাঝে চাষাবাদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ সকল জাত চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান ও সাবলম্বী হচ্ছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন,  শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধিতে আমন ধানের জাত যেমন বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭, জিংক সমৃদ্ধ বিনাধান- ২০, বিনাধান- ২২, বিনাধান- ২৬ স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় কৃষক চাষাবাদ করে লাভবান হয় এবং ফসল কাটার পর অনায়েশে সরিষা চাষ করে বোরোধান চাষাবাদ করতে পারে। আবার, আউশ ধানের জাত হিসেবে বিনাধান-১৯, বিনাধান- ২১ এ জাত গুলো খরাসহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় খরাপ্রবণ এলাকার কৃষক জাতগুলো চাষাবাদে লাভবান হয়। এই ফসল ঘরে উঠানোর পর পেঁয়াজ চাষ করে পরবর্তীতে বোরোধান চাষাবাদ করা যায়। এছাড়া, সরিষার জাত হিসেবে উচ্চফলনশীল ও স্বল্পজীবনকালীন বিনাসরিষা-৪, বিনাসরিষা-৯, বিনাসরিষা-১১ ও বিনাসরিষা-১২ এ জাতগুলো ৭৫-৯০ দিনের মধ্যেই পেকে যায়। ফলে বোরো ধান চাষে কোনো প্রকার অসুবিধা হয় না। এদিকে, মাষ কলাইয়ের জাতের মধ্যে বিনামাষ-১, বিনামাষ-২ ও বিনামাষ-৩ স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পার্শবর্তী এলাকার কৃষকদের মাঝে খুবই জনপ্রিয়। এই জাতগুলোর চাষাবাদ বৃদ্ধি করে ডাল জাতীয় ফসলের ঘাটতি পূরণ ও পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব।

ফলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কর্মশালায় কৃষকসহ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল জাতগুলোর চাষাবাদ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।