স্টাফ রিপোর্টার : দু’বছর আগেও রাজশাহী নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলাচল করা যেত এক নিমেষে সহজেই। যানজট তেমন ছিলো না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় কখনো কখনো কিছু সময়ের জন্য যানজট দেখা যেত। তবে এখন, রাজশাহী শহরজুড়েই অটোরিকশাজট নিত্যদিনের।অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীণ অটোরিকশার কারনে পুরো শহরে এখন চলাচলে চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন নগরবাসী। নগরবাসীর ভাষ্য শহরের অতিরিক্ত অটোরিকশা এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজশাহী মহানগরে এখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব অটোরিকশার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে নীরব। তাদের কোনো কার্যক্রম কিংবা এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনার খবর নাই।
একসময় নগরীর যানজট কমাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। অটোরিকশাগুলোকে দুই কালার মেরুন ও সবুজ রং করেছিলো। লক্ষ্য ছিলো শিফট ভাগ করে অটোরিকশা চলাচল। সকালে মেরুন রঙের রিকশা ও বিকেলে সবুজ। এভাবেই চলাচল করতো। তদারকি করতো সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। তাতে শহরের যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তবে এখন শহরে রিকশা কিংবা অটোরিকশা চলাচলে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সব অটোরিকশা একসঙ্গে চলছে মহানগরীর সড়কে। ফলে শহরজুড়ে এখন অটোরিকশাজট নিত্য ব্যাপারে পরিনত হয়েছে। এ নিয়ে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগও রয়েছে বিপাকে। সড়কে অটোরিকশা জট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশ কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শুধু আগের নিয়মে শিফট মেনে অটোরিকশা চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন বলছে, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। তবে পুলিশ কিছুটা সময় নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে চায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে আগের সব অটোরিকশার নিবন্ধন বাতিল করে ২০২১ সালে নতুন করে ৮ হাজার ৯০০টির নিবন্ধন দেওয়া হয়। এরপর থেকে আরো রিকশা বেড়েছে অন্তত তিনগুন। একই নিবন্ধনে রাজশাহীকে একাধিক রিকশা নামানোর অভিযোগও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের বাইরে অগণিত ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। নিবন্ধনের তিন/চারগুন বেশী রিকশা-অটোরিকশা একসঙ্গে শহরে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি করছেন। আগে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দেখভালের কারণে এবং শিফট ভাগ করে দেওয়ার কারনে যানজটের সৃষ্টি হলেও তা ছিলো সহনীয়। তবে এখন অটোরিকশা চলাচলে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই কারো। যার যখন খুশি, তখন রাস্তায় নেমে পড়ার কারণে শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় দেখা দিয়েছে যানজট।
রাজশাহী নগরের সাহেববাজার, গণকপাড়া, রেলগেট, শিরোইল বাস টার্মিনাল, লক্ষীপুর, ঘোড়াচত্ত্বর, দড়িখরবোনা এলাকায় যানজট নিত্য ঘটনায় পরিনত হয়েছে।
অটোরিকশাচালকদের ভাষ্য, আগে নিয়মের ভেতরে থাকলেও এখন আর কোনো নিয়ম নাই। আমার রিকশা আমি চালাচ্ছি অবস্থা। তিনি বলেন, যখন খুশি গাড়ি চালাচ্ছে। আমিও চালাচ্ছি। গাড়ি চললে ব্যাটারিগুলো ভালো থাকে। দুই পয়সা আয়-রোজগারও হয়। প্রশাসন যদি কড়াকড়ি শুরু করে তাহলে তখন আবার নিয়ম মেনেই চালাতে হবে। নগরীর দড়িখরবোনা এলাকায় রহিম নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, তাদের চলাচলে এখন আর কোনো বাধা নাই।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ বলেন, শহরে প্রচুর পরিমান রিকশা-অটোরিকশা অবৈধভাবে প্রবেশ করছে প্রতিদিন। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে করনীয় নিয়ে আলোচনার পর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, শহরে প্রচুর পরিমান অবৈধ রিকশা-অটোরিকশা চলাচল করছে। গত আগস্ট মাসেই সাড়ে চারশটি মামলা হয়েছে। বিপুল পরিমান টাকাও জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের বাইরে হাজারো অটোরিকশা চলছে শহরে। এগুলোই যানজটের মুল কারণ। তারপরেও ট্রাফিক বিভাগ সচেস্ট থেকে শহরে যানজট নিরসনের কাজ করে যাচ্ছে।