৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

পবার পিআইও আবু বাশিরকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিলো অফিসার্স ক্লাব

Admin Published: January 6, 2026, 5:56 pm
পবার পিআইও আবু বাশিরকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিলো  অফিসার্স ক্লাব

স্টাফ রিপোর্টার : বদলি জনিত কারণে কারিগরি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মো. আবু বাশিরকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব। একই সঙ্গে নবাগত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা হাফজা খাতুনকে বরণ করে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল্যায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে।

বিদায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আবু বাশিরের কর্মজীবনের স্মৃতি চারণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ক্লাবের সভাপতি আরাফাত আমান আজিজ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ সুযোগকে গ্রামবাংলার তরুণ প্রজন্মের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করাই ছিল আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পবা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ‘ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পবা উপজেলায় প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নের নতুন এক দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থায়নে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন প্রকৌশলী মো. আবু বাশির। সাধারণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে টিআর তহবিলের কার্যকর ব্যবহার সত্যিই প্রশংসনীয়।

উপজেলার ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ল্যাবরেটরি স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিদায়ী পিআইও’র স্মৃতি চারণ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেন। তিনি বলেন, বইয়ের পাতায় দেখা জামার ডিজাইন কিংবা শ্রেণিকক্ষে শোনা ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ের বর্ণনা এখন শিক্ষার্থীরা সরাসরি হাতে-কলমে শিখতে পারছে। এই কারিগরি ল্যাবরেটরিগুলো শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত টিআর কর্মসূচির অর্থ রাস্তাঘাট, সেতু কিংবা কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় হয়ে থাকে। কিন্তু পবায় এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে, যা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রকৌশলী মো. আবু বাশিরের উদ্যোগ ও দূরদর্শিতার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। টিআর কর্মসূচির আওতায় কারিগরি ল্যাব স্থাপনের এই উদ্যোগ পবা উপজেলার কারিগরি শিক্ষার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিদায়ী বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. আবু বাশির বলেন, পবা উপজেলায় তিন বছরের কর্মজীবন আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও স্মরণীয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে আটটি ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ চালু এবং ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাব স্থাপন আমার দায়িত্বকালের অন্যতম অর্জন।

উল্লেখ্য, বিদায়ী সংবর্ধনার পাশাপাশি নবাগত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা হাফজা খাতুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী কর্মকর্তার সুস্বাস্থ্য ও আগামী কর্মজীবনের সফলতা কামনা করা হয়।