স্টাফ রিপোর্টার : জনগণের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক মঙ্গল কামনা কামনার মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন রাজশাহী-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। একটি শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও নৈতিক রাজনীতির অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ের সামনে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের জনগণ, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ কামনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন নওহাটা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির সুজা উদ্দিন আহমেদ। দোয়া অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া ও মোনাজাত শেষে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন। নওহাটা কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে নওহাটা বাজার, থানার মোড়, ব্রিজঘাটসহ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। গণসংযোগকালে তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন এবং ভোটারদের কাছে তাঁর নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
গণসংযোগকালে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অধ্যায় হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণই প্রকৃত অর্থে নায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছি। কারণ একটি সুস্থ জাতিই পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী সময়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। সেই শহীদদের স্মরণ করেই তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তাদের আদর্শ ও আত্মত্যাগ থেকেই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল, আদর্শভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল। ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক আদর্শকে সামনে রেখে দলটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আল্লাহভীতি, সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে নেতৃত্ব গড়ে তোলাই জামায়াতের মূল দর্শন।
তিনি বলেন, জামায়াত বিশ্বাস করে নেতৃত্ব একটি আমানত, যা শুধুমাত্র যোগ্য, সৎ ও নৈতিক চরিত্রসম্পন্ন ব্যক্তির হাতেই ন্যস্ত হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবতার সেবার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ ও মূল্যবোধনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইন ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না এবং নিয়ম বহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডে দলটি জড়াবে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।